ETV Bharat / bharat

বরফ গলল ভারত-আমেরিকা সম্পর্কে, ফের শুরু দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা

ভারতের উপর 50 শতাংশ শুল্ক চাপানোর ফলে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির আলোচনায় ছেদ পড়েছিল ৷ ফের আলোচনা শুরু হচ্ছে ৷

US President Donald J Trump
হোয়াইট হাউজে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প (ফাইল ছবি (এপি))
author img

By PTI

Published : September 15, 2025 at 8:37 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

নয়াদিল্লি, 15 সেপ্টেম্বর: ভারতে 'জরিমানা শুল্ক' আরোপের পর একমাসও কাটেনি ৷ এর মধ্যে সোমবার রাতে ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বৈঠক করতে আসছেন ট্রাম্প প্রশাসনের প্রধান মধ্যস্থতাকারী ব্রেনডান লিঞ্চ ৷ তাঁর নেতৃত্বে আসছে বেশ কয়েকজন বাণিজ্য-প্রতিনিধির একটি দলও ৷ ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার বাণিজ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন লিঞ্চ ৷

এই এলাকার 15টি অঞ্চলে আমেরিকার বাণিজ্য নীতির উন্নয়ন ও কার্যকর করার বিষয়টি দেখাশোনার দায়িত্বে রয়েছেন তিনি ৷ এর মধ্যে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য নীতি মঞ্চ (ইউএস-ইন্ডিয়া ট্রেড পলিসি ফোরাম, টিপিএফ)-ও রয়েছে ৷ এছাড়া বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি (ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্টস, টিআইএফএস)-র কাজকর্ম দেখভালের দায়িত্বও সামলান ব্রেনডান ৷

জরিমানা শুল্ক লাগুর আবহে দু'দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা থমকে গিয়েছিল ৷ শুল্ক ঘিরে জটিলতা তৈরির আগে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি (বিটিএ) নিয়ে পাঁচ দফা আলোচনা হয়েছে দু'দেশের মধ্যে ৷ ষষ্ঠ দফার বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল 25-29 অগস্ট ৷ কিন্তু 50 শতাংশ শুল্ক আরোপের পর তা স্থগিত হয়ে যায় ৷

এ প্রসঙ্গে ভারতের তরফে প্রধান মধ্যস্থতাকারী তথা বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল জানান, দু'দেশের মধ্যে সম্পর্কের চাপানউতোরের সময়েও চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে ৷ তিনি বলেন, "আমরা অতীতে ইঙ্গিত দিয়েছি যে আলোচনা চলছে ৷ আমেরিকার প্রধান মধ্যস্থতাকারী আজ রাতে ভারতে আসছেন ৷ আগামিকাল আমরা বৈঠক করব ৷ তবে এই সফর দু'দেশের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে এটা শুধু ষষ্ঠ দফার আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকবে না ৷"

রাজেশ আরও জানান, প্রায় প্রতি সপ্তাহে ভারত ও আমেরিকা এই বিষয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক করেছে ৷ তিনি বলেন, "আমাদের মধ্যে আলোচনা চলছে ৷ কিন্তু এই বিষয়ে খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি ৷ কারণ, সার্বিক পরিবেশ অনুকূল ছিল না ৷ এখন আমরা একটা দিশা দেখতে পাচ্ছি ৷"

রাশিয়া থেকে তেল কিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্পের 25 শতাংশ জরিমানা শুল্কের কোপে পড়ে ভারত ৷ ভারতীয় পণ্য রফতানিতে মোট 50 শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে তার প্রশাসন ৷ এছাড়া ভারতের উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ নিয়েও বারবার অভিযোগ করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ৷

এই অবস্থায় আমেরিকার বাজারে রফতানি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে শিল্প মহল ৷ গত 27 অগস্ট থেকে এই শুল্ক কার্যকর হয়েছে ৷ এই কঠিন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৷ এর মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের একের পর এক আধিকারিক শুল্ক নিয়ে ভারতকে কটাক্ষ করে মন্তব্য করতে থাকেন ৷

সম্প্রতি 31 অগস্ট ও 1 সেপ্টেম্বর দু'দিনের এসসিও সম্মেলনে যোগ দিতে চিনের তিয়ানজিন শহরে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী ৷ সেখানে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে একাধিক ছবি সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন তিনি ৷ এরপরই ট্রাম্প ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেন, "চিনের গভীর অন্ধকারে ভারত ও রাশিয়াকে হারালাম ৷"

এরপর 6 সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউজের এক সাংবাদিক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারতের প্রতি সুর খানিকটা নরম করে বলেন, "আমি সবসময় মোদির বন্ধু থাকব ৷ তিনি একজন মহান প্রধানমন্ত্রী ৷ ভারত ও আমেরিকার সম্পর্কও বিশেষ ৷ কোনও কিছু নিয়ে দুশ্চিন্তা করার প্রয়োজন নেই ৷" প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এই পোস্টের জবাবে সম্মতিসূচক মন্তব্য করে সোশাল মিডিয়ায় লেখেন, "প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আবেগ এবং আমাদের সম্পর্ক নিয়ে তাঁর মূল্যায়নের প্রশংসা করছি ৷ তাঁর মন্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করি ৷" 9 সেপ্টেম্বর আরেকটি পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনার কথা জানান ৷ তারপর এদিন রাতে ভারতে আসছেন প্রধান মধ্যস্থতাকারী ব্রেনডান লিঞ্চ ও তাঁর দল ৷