অগস্ট থেকে বাংলাদেশে প্রাণ গিয়েছে 23 জন হিন্দুর, 152 বার হামলা হয়েছে মন্দিরে
লোকসভায় এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে সরকার জানিয়েছে, নভেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর আক্রমণের 76টি ঘটনা ঘটেছে।

Published : February 8, 2025 at 9:17 AM IST
নয়াদিল্লি, 8 ফেব্রুয়ারি: গত বছরের অগস্ট মাস থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রাণ গিয়েছে 23 জন হিন্দুর। পাশাপাশি 152টি মন্দিরে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। লোকসভায় এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ কথাই জানালেন বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং। তিনি আরও জানিয়েছেন, নভেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর আক্রমণের 76টি ঘটনা ঘটেছে।
লোকসভার এক সাংসদ জানতে চান, গত দু'মাসে মোট কতবার হিন্দুরা বাংলাদেশে আক্রান্ত হয়েছেন? কারও মৃত্যু হয়েছে কি না? মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটেছে কিনা? এই প্রশ্নের লিখিত জবাবে মন্ত্রী জানান, হিন্দু এবং অন্য সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণের ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে । দ্রুত এই ধরনের ঘটনা বন্ধ করতে পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে ।
ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে গত বেশ কয়েক মাস ধরে। গত বছর জুন-জুলাই মাসে বৈষম্য বিরোধী এই ছাত্র আন্দোলন ক্রমশ গণআন্দোলনের চেহারা নিতে থাকে । জনরোষের জেরে 5 অগস্ট বাধ্য হয়ে বাংলাদেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা । অভিযোগ, এরপর থেকে বারবার বাংলাদেশে হিন্দু-সহ অন্য সংখ্যালঘুরা আক্রান্ত হয়েছেন। ভারত আগেই প্রতিবাদে সরব হয়েছে । এবার লোকসভায় লিখিত প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হওয়া আক্রমণের বিবরণ দিল ভারত সরকার।
এদিকে, গত বুধবার রাত থেকে নতুন করে অশান্ত বাংলাদেশ। ধানমন্ডিতে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম নায়ক বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমানের বাড়িতে তাণ্ডব থেকে শুরু করে দেদার ভাঙচুর চলেছে ৷ পরদিন সকালে সেই ঐতিহাসিক বাড়ি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা ৷ সেদিনই ভার্চুয়াল মাধ্যমে বাংলাদেশের নাগরিকদের উদ্দেশে বক্তৃতা দেন গণঅভ্যুত্থানের জেরে দেশছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৷ তিনি তাঁর পৈতৃক বাড়ি ধ্বংসের ঘটনায় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী ইউনুস সরকারকে কড়া আক্রমণ করেন ৷ 5 অগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা ৷ তারপর থেকে এভাবে এই প্রথম প্রকাশ্য-বিবৃতি দিলেন মুজিব-তনয়া।
ভারতে থেকে শেখ হাসিনার এভাবে বিবৃতি দেওয়া নিয়ে তীব্র আপত্তি করে বাংলাদেশ। বলা হয়, এভাবে প্রকাশ্যে বক্তব্য পেশ করা থেকেে মুজিব-তনয়াকে বিরত করতেই হবে। বাংলাদেশের এই দাবি প্রসঙ্গে শুক্রবার রাতে প্রতিক্রিয়া দেয় বিদেশ মন্ত্রক। স্পষ্টই জানিয়ে দেওয়া হয়, হাসিনা কী বলেছেন তা তাঁর নিজস্ব বিষয়। তার সঙ্গে ভারত সরকারের কোনও সম্পর্ক নেই ।

