ETV Bharat / bharat

ক্যানসার জয়ী মধুরিমার NEET সাফল্য ! রইল ব্যতিক্রমী লড়াইয়ের কাহিনি

সর্বভারতীয় মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষায় পাশ করেছেন মধুরিমা ৷ ক্যানসারের সঙ্গে সংগ্রামের পরেও তিনি স্বপ্ন পূরণ করেছেন ৷

Madhurima Datta with Family
পরিবারের সঙ্গে মধুরিমা দত্ত (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : December 28, 2024 at 7:41 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

আগরতলা, 28 ডিসেম্বর: জীবনের 'বন্ধুর পথ' অতিক্রম করে সর্বভারতীয় মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট পাশ করেছেন মধুরিমা দত্ত ৷ সর্বভারতীয় পরীক্ষায় তাঁর ব়্য়াঙ্ক 2 লক্ষ 79 হাজার 66 এবং রাজ্যে তাঁর ব়্যাঙ্ক 295 ৷

মধুরিমার এই বন্ধুর যাত্রাপথের সূচনা 2016 সালে ৷ তখন তার বয়স মাত্র 12 ৷ বেসরকারি একটি স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির মেধাবি ছাত্রী ছিল মধুরিমা ৷ সেই সময় তাঁর নন-হজকিন'স লিম্ফোমা ধরা পড়ে ৷ সেই শুরু জীবনযুদ্ধ ৷ তার মধ্যেও নিজের স্বপ্নের কথা ভোলেনি মধুরিমা ৷ এই সাফল্যের দিনে ইটিভি ভারতের কাছে সেই চ্যালেঞ্জিং দিনগুলির স্মৃতিচারণ করলেন তাঁর মা রত্না দত্ত ৷

তিনি বলেন, "সেটা একটা ভীষণ ওঠাপড়ার সময় ছিল ৷ চিকিৎসার জন্য আমাদের মুম্বইয়ে চলে যেতে হয়েছিল ৷ সেখানে আমরা 5 বছর ছিলাম ৷ প্রথম দিকে আমরা ওকে সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেয়ে গিয়েছিলাম ৷ আমার বড় মেয়ে হৃতুরিমা ত্রিপুরাতে ওর বাবার সঙ্গে থেকে গিয়েছিল ৷ সেখানে ও পড়াশোনা করছিল ৷ আর আমাকে মধুরিমাকে নিয়ে মুম্বইয়ে থাকতে হল ৷ প্রথম দিকে আমার ভাইও আমাদের সঙ্গে থাকত ৷ পরে সবকিছুই আমায় একা সামলাতে হয়েছে ৷"

Madhurima Datta in Hospital
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মধুরিমা দত্ত (ইটিভি ভারত)

মধুরিমার এই যাত্রাপথ প্রসঙ্গে মধুরিমার মা জানান, ওই অল্প বয়সেই মধুরিমাকে কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন এবং বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের মতো কঠিন চিকিৎসার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে ৷ তাঁর বড় মেয়ে অর্থাৎ মধুরিমার দিদি হৃতুরিমা বোনকে বোম ম্যারো দান করে ৷ এত কিছু সত্ত্বেও মধুরিমার ক্যানসার আরও ছড়িয়ে পড়ছিল ৷ টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতাল এবং জ্যাসলোক হাসপাতালের চিকিৎসকরা এরপর মধুরিমাকে আমেরিকার ওষুধের দ্বারা চিকিৎসা করেন ৷ ভারতে প্রথম কোনও অপ্রাপ্তবয়স্ক রোগীর উপর ওই ওষুধ প্রয়োগ করা হল ৷ মা রত্না বলেন, "এই সময় আমরা প্রবল আর্থিক টানাটানির মধ্যে পড়ে গিয়েছিলাম ৷ কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং চিকিৎসকরা আমাদের প্রতিটি পদে সাহায্য করেছিল ৷"

এই লড়াইয়ের মধ্যেও ছোট্ট মধুরিমা তার স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রেখেছিল ৷ সে চিকিৎসক হতে চেয়েছিল ৷ আর এই ক্ষেত্রে তাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বড় ভূমিকা পালন করেছিল তার স্কুল ৷ এছাড়া মধুরিমা একটি অনলাইন সংস্থার অবদানের কথাও উল্লেখ করেছেন ৷ তিনি বলেন, "এমনিতেই নিট যে কোনও পড়ুয়ার কাছে চ্যালেঞ্জ ৷ কিন্তু আমার জন্য আরও বেশি কঠিন ছিল ৷ বছরের পর বছর ধরে চিকিৎসার ফলে আমার শরীর একেবারে ভেঙে পড়েছিল ৷ প্রতিদিন আমায় নিত্যনতুন সংক্রমণের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে ৷ কখনও ঠান্ডা লাগা, কখনও কাশি, অন্যসব শারীরিক সমস্যা লেগেই থাকত ৷ এর মধ্যে দিয়েই আমায় পড়াশোনার প্রস্তুতি নিতে হত ৷"

অন্য নিট পরীক্ষার্থীদের জন্য তাঁর বার্তা, "মানসিক চাপ যেন কোনও ভাবেই আপনাকে গ্রাস করতে না পারে ৷ স্থির ও শান্তভাবে আপনি আপনার সবচেয়ে ভালোটা দেওয়ার চেষ্টা করবেন ৷ নিট যতটা জ্ঞানের পরীক্ষা, ততটাই ধৈর্য ও পরিশ্রমের পরীক্ষাও ৷"