লিট্টি চোখা খাওয়ার পরই দুধপান ! মৃত্যু 3 ভাইবোনের
মায়ের সঙ্গে দিদার বাড়িতেই থাকত তিন ভাইবোন ৷ আচমকা মর্মান্তিক পরিণতি ৷ লিট্টি-চোখা খাওয়ার পর দুধ পান করতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে শিশুরা ৷

Published : August 13, 2025 at 2:23 PM IST
পটনা, 13 অগস্ট: লিট্টি চোখা খাওয়ার পর রাতে দুধ পান করে শুয়ে পড়েছিল তিন ভাইবোন ৷ তারপরই শুরু হয় অসহ্য পেটে যন্ত্রণা ৷ হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষরক্ষা হয়নি ৷ চিকিৎসকের ইনজেকশন দেওয়াতেও কাজ হয়নি ৷ অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার পর সেখানে যাওয়ার সময় মৃ্ত্যু হয় বিহারের মীরা দেবীর দুই পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের ৷ সোমবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে পালিগঞ্জ খিরিমোর থানা এলাকার খিরিপার গ্রামে। শিশুদের পরিবার মনে করছে, খাদ্যে বিষক্রিয়ার জেরে তাদের মৃ্ত্যু হয়েছে ৷
পালিগঞ্জ পুলিশ শিশুদের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায় ৷ খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগকেও এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, খাদ্যে বিষক্রিয়ার জেরে এই ঘটনা ৷ মৃত শিশুদের বাবার বাড়ি আরওয়াল জেলার মাসাদপুর গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মীরা দেবী সন্তানদের নিয়ে তাঁর বাপের বাড়িতেই থাকতেন ৷ তাঁর স্বামী মোহন ঠাকুর গুজরাতে বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন ৷ সন্তানদের মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি বাড়ি ফেরেন ৷
দুই এলাকার পুলিশের বক্তব্য -
পালিগঞ্জের খিরিমোর থানার আধিকারিক প্রবীণ কুমার বলেন, "আরওয়ালে দু'টি শিশু মারা গিয়েছে, আর তৃতীয় জনের মৃ্ত্যু হয়েছে পটনার পিএমসিএইচে ৷ পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি ৷ তবে প্রাথমিক অনুমান, খাদ্যে বিষক্রিয়ার জেরে এই ঘটনা ঘটেছে ৷"
আরওয়াল জেলার পারসি থানার পুলিশ আধিকারিক পীযূষ জয়সওয়াল বলেন, "ঘটনাটি পালিগঞ্জের খিরিমোর এলাকার ৷ মৃতদেহগুলির ময়নাতদন্ত হয়েছে। রিপোর্ট হাতে এলে কারণ জানা যাবে ৷"
ঘটনাটি ঠিক কী ?
গত পরশু রাতে লিট্টি-চোখার খাওয়ার পর দুধ পান করে ঘুমোতে যায় ৷ 11টা নাগাদ তারা মা'কে জানায় তাদের পেটে ব্যথা করছে ৷ এরপরই মীরা তার বাবাকে জানিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেন ৷ সকলকে পালিগঞ্জ মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে শিশুদের চিকিৎসা শুরু হয় ৷
PMOH-এ মৃ্ত্যু -
চিকিৎসক ইনজেকশন দেওয়ার পর পরিস্থিতি কোনও উন্নতি না-দেখে শিশুদের পরিবারকে জানান, এই হাসপাতালে রোগ নিরাময় হবে না ৷ তাই অন্যত্র যেতে হবে ৷ পটনা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তাতেই দু'জনের মৃত্যু হয় ৷ অন্যজনের মৃত্যু হয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ৷
মৃত শিশুরা-
প্রতিদিনই তারা গ্রামেরই এক বাড়ি থেকে কিনে আনা দুধ খেত। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, লিট্টি চোখা খাওয়ার পরে দুধ পান করতেই অনর্থ ঘটে যায়। রাত থেকেই পেটে ব্যথা শুরু হয় ৷ তার কয়েকঘণ্টার মধ্যে মৃত্যু ৷ মৃত শিশুরা হল- 5 বছরের বিকাশ কুমার, 3 বছরের মোহিত কুমার, ও 6 বছর বয়সি নিধি কুমারী। সন্তানদের হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা ও পরিবারের সদস্যরা ৷
পরিবারের বক্তব্য -
- শিশুদের দাদু কমলেশ ঠাকুর বলেন, "ঘটনাটি সোমবার সন্ধ্যায় ঘটে। বাড়িতে লিট্টি চোখা তৈরি করা হয়েছিল। আমরা সকলেই লিট্টি চোখা খেয়েছি ৷ ওরা তারপরে দুধ খেয়েছিল। রাত 11টা নাগাদ মেয়ে আমার মেয়ে বলে বাবা, ছেলেমেয়েদের পেটে ব্যথা হচ্ছে। আমরা দেরি না-করে নাতি-নাতনিকে হাসপাতালে নিয়ে যাই ৷ কিন্তু ওদের বাঁচানো যায়নি ৷"
- মীরা দেবীর এক আত্মীয় শ্রীপাল বলেন, "স্থানীয় বাসিন্দা রামবাবু মাহাতোর বাড়ি থেকে দুধ আনা হয়েছিল। ওরা প্রতিদিন তাঁর কাছ থেকে দুধ কিনতেন ৷ ওনাদের সঙ্গে কোনও ঝামেলা-অশান্তিও নেই ৷ রাতের খাবার খেয়ে, বাচ্চারা দুধ পান করে ঘুমিয়ে পড়ে ৷ পরে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে যায় ৷"

