ETV Bharat / bharat

সম্পূর্ণ ওয়াকফ আইন স্থগিত করার কোনও যুক্তি নেই, পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের

ওয়াকফ আইনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মামলা হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। গত 22 মে ওই মামলায় রায়দান স্থগিত রাখে শীর্ষ আদালত।

WAQF AMENDMENT ACT 2025
সুপ্রিম কোর্ট (ফাইল চিত্র, ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : September 15, 2025 at 1:08 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

নয়াদিল্লি, 15 সেপ্টেম্বর: সংশোধিত ওয়াকফ আইনের উপর সম্পূর্ণ স্থগিতাদেশ জারি করল না সুপ্রিম কোর্ট ৷ তবে, এই আইনের মূল কয়েকটি অংশের উপর স্থগিতাদেশ জারি করার সিদ্ধান্ত নিল শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাই এবং বিচারপতি এজি মাসিহের ডিভিশন বেঞ্চ ৷ সোমবার আদালত জানিয়েছে, এই আইনের ধারাগুলিকে সম্পূর্ণভাবে স্থগিত করার কোনও যুক্তি নেই ৷

এদিন অন্তর্বর্তী রায় ঘোষণার সময় প্রধান বিচারপতি জানান, আইনটি সম্পূর্ণভাবে স্থগিত করার জন্য কোনও মামলা দায়ের হয়নি ৷ তবে, ওয়াকফ হিসেবে ঘোষিত সম্পত্তি সরকারি কি না, তা নির্ধারণ করা এবং সেই প্রসঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ প্রদানের জন্য জেলাশাসককে যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে তার উপর স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছে ৷

আদালতের পর্যবেক্ষণ, জেলাশাসক সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত অধিকার নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। তিনি প্রশসানের আধিকারিক ৷ প্রশাসনের হাতে ক্ষমতা ছাড়লে ক্ষমতার পৃথকীকরণের তত্ত্বে যে শর্ত বর্ণিত আছে তা লঙ্ঘিত হবে ৷ এমতাবস্থায় আদালতের নির্দেশ, কোনও সম্পত্তি নিয়ে তৈরি হওয়া বিবাদ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট আধিকারিক ওই সম্পত্তির দখল নিতে পরবেন না ৷

কোন কোন ধারার উপর স্থগিতাদেশ ?

সংশোধিত ওয়াকফ আইন অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তিকে ওয়াকফ প্রতিষ্ঠা করতে হলে তাঁকে অন্তত পাঁচ বছর ইসলাম ধর্ম পালন করতে হবে । এদিন আইনের এই অংশের উপরও স্থগিতাদেশ জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট ৷ আদালত জানিয়েছে, কোনও ব্যক্তি 5 বছর ধরে ইসলাম ধর্ম পালন করছেন কি না, তা বিচার করার জন্য রাজ্য় সরকারগুলিকে একটি নিয়ম তৈরি করতে হবে ৷ সেই নিয়ম তৈরি না-হওয়া পর্যন্ত এই শর্তটিও স্থগিত করা হয়েছে ৷ শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, নিয়ম না-থাকলে এই শর্তের কারণে ক্ষমতার অপব্যবহার হতে পারে ৷

এদিন সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, ওয়াকফ বোর্ডে অমুসলিম সদস্য রাখা যাবে । তবে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, ওয়াকফ বোর্ডে সর্বোচ্চ 4 জন অমুসলিম সদস্য থাকতে পারবেন, রাজ্যের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ 3 জন ৷ সেই সঙ্গে, রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করার বিধানে হস্তক্ষেপ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শীর্ষ আদালত । আদালতের পর্যবেক্ষণ, এটি কোনও নতুন প্রয়োজনীয়তা নয় ৷ এই শর্তটি 1995 এবং 2013 সালের পূর্ববর্তী আইনগুলিতেও ছিল ।

এই মামলার শেষ শুনানি হয়েছিল চলতি বছরের 22 মে ৷ সংশোধিত ওয়াকফ আইনকে চ্যালেঞ্জ করে পক্ষগুলির পক্ষে উপস্থিত আইনজীবীদের এবং কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্বকারী সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার টানা তিন দিন শুনানি করে সুপ্রিম কোর্ট । দেশের প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাইয়ের নেতৃত্বে গঠিত বেঞ্চ শুনানির পর রায় ঘোষণা স্থগিত রেখে দেয় ৷

ওয়াকফ বিতর্ক

চলতি বছরের বাজেট অধিবেশনে প্রায় 13 ঘণ্টা দীর্ঘ বিতর্কের পর গত 3 এপ্রিল গভীর রাতে লোকসভায় ভোটাভুটির মাধ্যমে ওয়াকফ সংশোধনী বিল পাশ করা হয়। পক্ষে পড়ে 288টি ভোট ৷ 232টি ভোট পড়ে বিপক্ষে ৷ এরপর গত 4 এপ্রিল রাজ্যসভাতেও পাশ হয় এই বিল ৷ বিলের পক্ষে ভোট পড়ে 128টি । 95টি ভোট পড়ে বিপক্ষে ৷ এই বিতর্কের মধ্যেই 5 এপ্রিল গভীর রাতে বিলে স্বাক্ষর করেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ৷ বিরোধীদের তীব্র প্রতিবাদ সত্ত্বেও আইনে পরিণত হয় ওয়াকফ সংশোধনী বিল 2025 ৷ এরপর 8 এপ্রিল নির্দেশিকা জারি করে বিষয়টি জানায় কেন্দ্রীয় সরকার ৷

ওয়াকফ মামলা

সংশোধিত ওয়াকফ আইনের সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে অন্তত 72টি মামলা দায়ের হয়েছিল ৷ মামলাগুলির একত্রে প্রথম শুনানি শুরু হয় এপ্রিল মাসে ৷ কেন্দ্রীয় সরকার শীর্ষ আদালতকে অনুরোধ করে, ওয়াকফ (সংশোধন) আইন, 2025-এর বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে যে আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে সেগুলি খারিজ করা হোক ৷ কেন্দ্রের দাবি ছিল, কিছু বিধানকে ঘিরে মিথ্যা বর্ণনার উল্লেখ করা হয়েছে । এরপর এই মামলায় গত 25 এপ্রিল কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রক 2025 সালের সংশোধিত ওয়াকফ আইনের পক্ষে 1332 পৃষ্ঠার একটি প্রাথমিক হলফনামা দাখিল করে ৷ সংসদে পাশ হওয়া আইনের উপর আদালতের যে কোনও পূর্ণ স্থগিতাদেশের বিরোধিতাও করে মন্ত্রক। শেষমেশ রায় দিল সর্বোচ্চ আদালত ৷

পড়ুন: ওয়াকফ সংশোধনী আইন নিয়ে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা সোমবার