মাথার দাম 1 কোটি, ঝাড়খণ্ড এনকাউন্টারে নিকেশ কমান্ডার-সহ 8 মাওবাদী
বোকারোতে মাওবাদীদের সঙ্গে পুলিশের গুলির লড়াই ৷ তাতেই খতম মাওবাদী কমান্ডার বিবেক ৷ শেষ পাওয়া খবর পর্যন্ত এনকাউন্টার চলছে ৷

Published : April 21, 2025 at 12:50 PM IST
|Updated : April 21, 2025 at 10:40 PM IST
রাঁচি, 21 এপ্রিল: ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী বিরোধী অভিযানে বড়সড় সাফল্য ৷ পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ এনকাউন্টারে খতম আটজন মাওবাদী ৷ মৃত একজনের মাথার দাম ছিল 1 কোটি টাকা ৷ সোমবার ঘটনাটি ঘটেছে ঝাড়খণ্ডের বোকারো জেলার লুগু পাহাড়ে ৷ ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে । তবে এনকাউন্টার জারি রয়েছে বলে খবর ৷
বোকারোর লুগু এলাকায় মাওবাদীদের একটি বিশাল দল হামলার ছক কষে ঘোরাফেরা করছে বলে সূত্র মারফত খবর পায় পুলিশ ৷ তারপরই কোবরা এবং ঝাড়খণ্ড পুলিশের বেশ কয়েকটি দল ও নিরাপত্তাবাহিনী মাওবাদীদের সন্ধানে তল্লাশি শুরু করে । সেই সময় লুগু পাহাড়ের পাদদেশে দু'পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায় ৷ উভয়ের গোলাগুলিতে খতম হয় আট মাওবাদী ৷

যদিও বলা হচ্ছে যে, 10 জনেরও বেশি মাওবাদী নিহত হয়েছে । তবে এখন পর্যন্ত 8 জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে । তাদের সকলকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে । ঝাড়খণ্ড পুলিশের দাবি, বর্তমানে এনকাউন্টার চলছে ।
খতম মাওবাদীদের পরিচয় :
ঝাড়খণ্ড পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই এনকাউন্টারে মাওবাদী কমান্ডার বিবেক এবং অরবিন্দ যাদবেরও মৃত্যু হয়েছে । সিপিআই মাওবাদীদের সদস্য প্রয়াগ মাঞ্ঝি ওরফে বিবেকের দাম ছিল 1 কোটি টাকা ৷ মাওবাদী বিবেকের দলের সঙ্গে এই সংঘর্ষ হয় ৷ আর অরবিন্দ যাদবের 10 লক্ষ টাকা । এই সংঘর্ষে সাহেব রাম মাঞ্জি-সহ বিবেকের অনেক সঙ্গী নিহত হয়েছে বলে খবর ।
ঝাড়খণ্ড পুলিশের ওয়েবসাইট অনুসারে, তিন নকশালপন্থীর মধ্যে বিবেক ছিল অন্যতম । অন্য দু'জনের মধ্যে রয়েছে গিরিডির মিসির বেসরা ওরফে ভাস্কর এবং পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুরের অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশ । এই আটজনের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে মাওবাদীদের ঝুমরা অধ্যায় প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছে বলে অনুমান । ঝাড়খণ্ডের গিরিডি এবং বোকারো জেলায় বিবেকের দলের অনেক প্রভাব ছিল । বিবেকের দল পরশনাথ থেকে ঝুমরা পর্যন্ত সক্রিয় ছিল বলে জানা গিয়েছে ।
প্রয়াগ মাঝি ওরফে বিবেকের স্ত্রী জয়া মাঝিকে 16 জুলাই, 2024 তারিখে ধানবাদের আসারফি হাসপাতাল থেকে গ্রেফতার করে গিরিডি পুলিশ। সিপিআই (মাওবাদী)-এর একজন মহিলা কর্মী জয়াকে গ্রেফতারের সময় তার উপর 25 লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। গিরিডি এবং সংলগ্ন এলাকায় এক ডজনেরও বেশি মাওবাদী-সম্পর্কিত মামলায় ওয়ান্টেড, ক্যানসারে আক্রান্ত জয়া আসরফি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
জয়া বেশ কয়েকটি মামলায় ওয়ান্টেড ছিলেন এবং মধুবন থানায় দায়ের করা পরশনাথ পাহাড় হামলা মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত ছিলেন। 2019 সালের জানুয়ারিতে পরশনাথ পাহাড়ের ঘন জঙ্গলে মাওবাদ বিরোধী অভিযানের সময় সশস্ত্র মাওবাদীরা নিরাপত্তা বাহিনীর উপর গুলি চালিয়েছিল।
জয়াকে গ্রেফতার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে রাঁচির রিমস-এ স্থানান্তরিত করা হয় যেখানে 21 সেপ্টেম্বর, 2024 তারিখে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

