রাজীবের আগাম জামিন মামলায় সুপ্রিম প্রশ্নের মুখে সিবিআই
রাজীবের মামলায় আদালতের প্রশ্নের মুখে পড়ল সিবিআই ৷ 6 বছর আগে কলকাতা হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পান রাজীব । সেই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হল ।

By PTI
Published : October 13, 2025 at 3:34 PM IST
নয়াদিল্লি, 13 অক্টোবর: পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারের আগাম জামিন সংক্রান্ত মামলায় সর্বোচ্চ আদালতের প্রশ্নের মুখে পড়ল সিবিআই ৷
2019 সালের এক সিবিআই আধিকারিকের হেনস্থার ঘটনায় তাঁর নাম জড়ায় ৷ এই সংক্রান্ত মামলায় ওই বছরের পয়লা অক্টোবর সর্বোচ্চ কলকাতা হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পান রাজীব ৷ এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে মামলা করে সিবিআই ৷ আগামী শুক্রবার এই সংক্রান্ত শুনানি হবে দেশের প্রধান বিচারপতি বিআর গভাই এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের ডিভিশন বেঞ্চ ৷
সোমবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফে সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা দ্রুত শুনানির আর্জি জানান ৷ অন্য আবেদনের সঙ্গে আদালত অবমাননা সংক্রান্ত একটি আবেদনেরও শুনানি চান সলিসিটার জেনারেল ৷ আদালত সেই আবেদন খারিজ করে জানায়, এত বছর ধরে সিবিআই এ ব্যাপারে কোনও উদ্যোগ নেয়নি ৷ তাই মামলার দ্রুত শুনানি সম্ভব নয় ৷
ঘটনার সূত্রপাত 2019 সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে ৷ রাজীব তখন কলকাতা পুলিশের কমিশনার ৷ চিটফান্ড মামলার তদন্তে তাঁর সরকারি বাসভবনে হানা দেয় সিবিআই ৷ সে সময় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এক আধিকারিককে ঘেরাও করা হয় বলে অভিযোগ ৷ এই ঘটনায় রাজীবের নাম জড়ায় ৷ আগাম জামিনের আবেদন জানিয়ে শীর্ষ আদালতে মামলা করেন রাজীব ৷ তাঁকে জামিন দেয় আদালত ৷ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে শীর্ষ আদালতের ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করে সিবিআই ৷ সেই তখন থেকে গত 6 বছর ধরে মামলার কোনও শুনানি হয়নি ৷ অবশেষে আগাম জামিনের বৈধতা খতিয়ে দেখবে সুপ্রিম কোর্ট ৷
রাজীব কুমারের বাড়িতে সিবিআইয়ের যাওয়া নিয়ে তুমুল রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয় ৷ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সত্যাগ্রহ শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী ৷ ধর্মতলায় অবস্থান মঞ্চ করে টানা কয়েকদিন ধরে প্রতিবাদ করে বাংলার শাসক শিবির ৷ 2013 সালে সারদা চিটফান্ডের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার সময় রাজীব ছিলেন বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার ৷ সে সময় সুদীপ্ত সেনকে গ্রেফতার করে বিধাননগর পুলিশের একটি দল ৷ তাঁর নেতৃত্বেই চলতে থাকে তদন্ত ৷ বিরোধীদের অভিযোগ, প্রথম থেকেই তদন্তের কাজে একাধিক ফাঁকি রেখেছেন রাজীব ৷ শাসক শিবিরের নেতা-নেত্রীদের আড়াল করার অভিযোগও উঠেছে ৷
তদন্তের জন্য তাঁর ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করেছে সিবিআইও ৷ কলকাতা পুলিশের কমিশনার থাকার সময় তাঁকে জেরা করতে চেয়ে একাধিকবার লালবাজারে চিঠিও লেখে সিবিআই ৷ শুধু বিরোধী বা সিবিআই নয়, শাসক শিবির তৎকালীন রাজ্য়সভার সাংসদ কুণাল ঘোষও রাজীবের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ৷ তাঁর সঙ্গে মুখোমুখি বসতে চেয়ে সিবিআইকে যৌথ জিজ্ঞাসাবদের ব্যবস্থাও করতে বলেন তিনি ৷ পরে মেঘালয়ের শিলংয়ে দুপক্ষকে পাশাপাশি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করে সিবিআই ৷ আরও পরে তাঁর বাসভবনে হানা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ৷

