ETV Bharat / bharat

মৃত্যু থেকে শিক্ষা ! রথযাত্রার চতুর্থ দিনে লম্বা লাইনে জগন্নাথ দর্শন ভক্তদের

রবিবার গুণ্ডিচা মন্দিরে ভিড়ের মধ্যে ঠেলাঠেলিতে 3 জনের মৃত্য হয় ৷ ঘটনার একদিন পর প্রভু জগন্নাথের দর্শনে সোমবার লম্বা লাইন ভক্তদের ৷

PURI RATH YATRA 2025
বাবার কাঁধে চেপে জগন্নাথ মহাপ্রভুর দর্শনে এক খুদে (আইএএনএস)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : June 30, 2025 at 5:09 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

পুরী, 30 জুন: রবিবারের ঘটনা থেকে শিক্ষা ৷ সোমবার ভক্তদের ভিড় সামলাতে গুণ্ডিচা মন্দিরের সামনে তৈরি করা হল ব্যারিকেড ৷ রথযাত্রার চতুর্থ দিনে সেই ব্য়ারিকেডে লম্বা লাইনে বলভদ্র, সুভদ্রা এবং জগন্নাথ মহাপ্রভুর দর্শন করলেন হাজার হাজার ভক্ত ৷

রথযাত্রার তৃতীয় দিন রবিবার ভোরে গুণ্ডিচা মন্দিরের সামনে শারধাবলীতে জগন্নাথদেবকে দেখার জন্য ভিড় জমান ভক্তরা ৷ ঠিক সেই সময়ই হুড়োহুড়ি শুরু হয় ৷ ভিড়ের মধ্যে ঠেলাঠেলিতে মৃত্যু হয় দুই মহিলা-সহ 3 জনের ৷ আহতের সংখ্যা 50 জন ৷ পুরী সদর হাসপাতালে তাঁদের ভর্তি করা হয় ।

প্রশাসনের বিরুদ্ধে ভক্তদের নিরাপত্তায় ত্রুটির অভিযোগ ওঠে ৷ রথযাত্রার চতুর্থ দিনে কোনও রকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তার কড়াকড়ি করা হয় প্রশাসনের তরফে ৷ ভিড় সামলাতে মন্দিরের 'আদপা মণ্ডপ' পর্যন্ত তৈরি করা হয় ব্যারিকেড ৷ সেই ব্যারিকেডের মধ্যে লম্বা লাইন করে প্রভু জগন্নাথ দর্শন করেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভক্তরা ৷

সোমবার গুণ্ডিচা মন্দির কমিটির তরফে জানানো হয়, একাধিক আচার অনুষ্ঠান পালনের জন্য রবিবার রাতে মন্দিরের দরজা খোলা রাখা হয় ৷ সোমবার সকাল 7টা 40 মিনিটে মঙ্গল আরতি করা হয় ৷ সেই আরতি দেখতে মন্দির চত্বরে ভিড় জমান ভক্তরা ৷ তবে, এদিন আর কোনও সমস্যার সৃষ্টি হয়নি ৷ এরপর ভগবানদের মন্দিরে তৈরি ভোগ নিবেদন করা হয় ৷ এই প্রসাদকে 'আদপা মণ্ডপ প্রসাদ' বলা হয় ৷

আইপিএস আধিকারিক সৌমেন্দ্র প্রিয়দর্শী বলেন, "আমরা যে কোনও পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুত রয়েছি ৷ তবে, ভগবানের কৃপায় এখনও পর্যন্ত সবকিছু সুন্দরভাবে চলছে ৷ কোনও রকম সমস্যা ছাড়াই শ্রী গুণ্ডিচা মন্দিরে প্রবেশ করে তিন ভগবানের দর্শন করেছেন ভক্তরা ৷"

কী ঘটেছিল রবিবার ?

প্রথা মেনে শুক্রবার 27 জুন রথযাত্রার দিন গুণ্ডিচায় 'মাসির বাড়ি' যাওয়ার কথা ছিল বলভদ্র, সুভদ্রা ও জগন্নাথ দেবের ৷ রথযাত্রা দেখতে লক্ষ লক্ষ ভক্ত ভিড় করেন পুরীতে ৷ এবারও তেমনই ভক্তের ভিড় দেখা গিয়েছিল ৷ তাই ভিড় ঠেলে মাসির বাড়ি পৌঁছতে পারেননি তিন ভাইবোন ৷ শনিবার সকালে গুণ্ডিচায় পৌঁছন তাঁরা ৷

রবিবার ভোর 4টে নাগাদ রথযাত্রার তৃতীয় দিনে গুণ্ডিচা মন্দিরের সামনে জগন্নাথদেবের দর্শনের জন্য ভিড় জমান লক্ষ লক্ষ ভক্ত ৷ মহাপ্রভুকে দেখতে কার্যত হুড়োহুড়ি পড়ে যায় মন্দির চত্বরে ৷ ভিড়ের মধ্যে ঠেলাঠেলি, পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে ৷ মৃত্যু হয় দুই মহিলা-সহ 3 জনের ৷

ঘটনায় ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝির বক্তব্য

রবিবার ভোরের ঘটনায় ক্ষমা চান ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি ৷ সেই সঙ্গে, একগুচ্ছ প্রশাসনিক পদক্ষেপ করা সরকারের তরফে ৷ পুরীর জেলাশাসক সিদ্ধার্থ শঙ্কর সোয়াইন এবং পুলিশ সুপার বিনীত আগরওয়ালকে বদলির নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী ৷ পাশাপাশি দুই পুলিশ কর্তা ডিসিপি বিষ্ণু পাটি এবং কমান্ড্যান্ট অজয় পাধিকেও সাসপেন্ড করা হয় ৷

খুরদার জেলাশাসক চঞ্চল রানাকে পুরীর নয়া জেলাশাসক হিসাবে নিযুক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী ৷ পুরীর নয়া এসপি হন পিনাক মিশ্র ৷ পদপিষ্টের ঘটনা কীভাবে ঘটল, তার প্রশাসনিক তদন্তের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী ৷ ডেভেলপমেন্ট কমিশনারের নেতৃত্বে এই তদন্ত করা হবে ৷

পাশাপাশি, রথযাত্রার পুরো বিষয়টি দেখাশোনার দায়িত্বে দেওয়া হয় প্রবীণ আমলা অরবিন্দ আগরওয়ালকে ৷ আগে তিনি রথযাত্রা পরিচালনা করেছেন ৷ এই মুহূর্তে তিনি উচ্চশিক্ষা দফতরের কমিশনার তথা সচিব ৷

বিরোধীদের কটাক্ষ

রবিবারের ঘটনার পরই ওড়িশার বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়ান বিরোধীরা ৷ বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তোলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক ৷ ঘটনায় তীব্র নিন্দা করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধিও ৷

এক্স হ্যান্ডেলে বিজু জনতা দল (বিজেডি)-এর সুপ্রিমো তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, "রথযাত্রায় বহু ভক্ত আহত হয়েছেন ৷ ভিড় সামলানোর যথাযথ ব্যবস্থা ছিল না ৷ এতেই বোঝা যাচ্ছে, সরকার শান্তিপূর্ণ রথযাত্রা আয়োজনে ব্যর্থ ৷ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পদপিষ্টের ঘটনার সময় ভক্তদের সমাগম সমাগম সামলানোর মতো যথেষ্ট সরকারি ব্যবস্থা ছিল না ৷ এটা দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় ৷"

অন্যদিকে রাহুল গান্ধি লেখেন, "পুরীতে রথযাত্রার সময় ভিড়ে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ৷ শোকার্ত পরিবারের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা রইল ৷ আহতরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন ৷ ওড়িশা সরকারের কাছে আবেদন, উদ্ধারের কাজে গতি আনুন ৷ কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের বলব, তাঁরা যেন সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন ৷"

তিনি আরও লেখেন, "বড়সড় কোনও আয়োজনে সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে আগে থেকে একটি সমীক্ষা করে নেওয়া উচিত ৷ প্রাণের দাম সবার উপরে ৷ এই দায়িত্বে কোনও অবহেলা গ্রহণযোগ্য নয় ৷"

পড়ুন: পুরীর রথযাত্রায় পদপিষ্টের ঘটনায় ক্ষমাপ্রার্থী মুখ্যমন্ত্রী, গাফিলতি নিয়ে সরব বিরোধীরা