পথকুকুর মামলার নির্দেশ খতিয়ে দেখার আশ্বাস প্রধান বিচারপতির
শুনানিতেই প্রধান বিচারপতি উল্লেখ করেন, বেওয়ারিশ কুকুর সম্পর্কিত অন্য আরও একটি বেঞ্চ ইতিমধ্যেই একটি নির্দেশ দিয়েছে।

By PTI
Published : August 13, 2025 at 2:05 PM IST
নয়াদিল্লি, 13 অগস্ট: পথকুকুর নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর দেশজুড়ে চর্চা শুরু হয়েছে ৷ সেই আবহে রায় খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিলেন প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাই ৷ পথকুকুর সম্পর্কিত একটি মামলার জরুরি ভিত্তিতে শুনানির জন্য তাঁর ডিভিশন বেঞ্চে উল্লেখ করা হলে বুধবার দেশের প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাই বলেন, "আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখব।"
কনফারেন্স ফর হিউম্যান রাইটস (ইন্ডিয়া)-এর তরফে এক আইনজীবী প্রধান বিচারপতি এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের ডিভিশন বেঞ্চের সামনে এই আবেদনটি পেশ করেন ৷ শুনানিতে প্রধান বিচারপতি উল্লেখ করেন, বেওয়ারিশ কুকুর সম্পর্কিত অন্য আরও একটি বেঞ্চ ইতিমধ্যেই একটি নির্দেশ দিয়েছে। 11 অগস্ট, বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের ডিভিশন বেঞ্চ তাদের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট জানিয়েছেন, কুকুরের কামড়ের ঘটনাগুলি অত্যন্ত ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে ৷ জলাতঙ্কের জেরে বহু শিশু থেকে শুরু করে অনেকের প্রাণ গিয়েছে ৷ এমতাবস্থায় দিল্লি এবং জাতীয় রাজধানী অঞ্চলে থাকা সমস্ত পথকুকুরকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব স্থায়ীভাবে স্থানান্তরেরও নির্দেশ দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ।
এমনই আবহে বুধবার, কনফারেন্স ফর হিউম্যান রাইটস (ইন্ডিয়া)- আইনজীবী প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে সওয়াল করেন ৷ আদালতকে তিনি 2024 সালে বিচারপতি জেকে মহেশ্বরির ডিভিশন বেঞ্চের দেওয়া নির্দেশের কথা মনে করিয়ে দেন ৷ ডিডিশন বেঞ্চ বলেছিল, বেওয়ারিশ কুকুর সম্পর্কিত আবেদনগুলি সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টে পাঠানো হোক ৷ এরপরই প্রধান বিচারপতি শুনানিতে আশ্বাস দেন, তিনি গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন
ওই সংস্থার দাবি, 2001 সালে পশু জন্ম নিয়ন্ত্রণ (কুকুর) আইনটি তৈরি হয়েছে ৷ সেখানে পথকুকুরদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা কমাতে নিয়মিত বন্ধ্যাকরণ এবং টিকাদান কর্মসূচি বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল ৷ কিন্তু তা আদতে মানা হচ্ছে না। এই প্রেক্ষাপটেই সংস্থার তরফে দেশের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করা হয়েছে ৷
এদিকে, 11 অগস্টের রায়ে, শীর্ষ আদালত আরও জানিয়েছে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কুকুর আশ্রয়কেন্দ্রগুলি বৃদ্ধি করতে হবে ৷ দিল্লি সরকারকে ছয় থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার কুকুরের আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি শুরু করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কুকুরদের নিরাপদস্থলে নিয়ে যেতে কেউ যদি বাধা দেয় তাহলে সেই ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছিল শীর্ষ আদালত ৷ দিল্লি সরকারকে এই সংক্রান্ত ব্যবস্থা করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল ৷
অন্যদিকে, পশু অধিকার কর্মী তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মানেকা গান্ধি দিল্লিতে পথকুকুরের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি এই নির্দেশিকাকে অবাস্তব, আর্থিকভাবে অকার্যকর এবং পরিবেশগত ভারসাম্যের জন্য ক্ষতিকারক বলে অভিহিত করেছেন ৷ সঞ্জয়-জায়া বলেন, "দিল্লিতে তিন লক্ষ কুকুর আছে। তাদের সবাইকে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য, ড্রেনেজ, জল, শেড, রান্নাঘর এবং অন্তত একজন প্রহরী রাখতে হবে। এর জন্য প্রায় 15000 কোটি টাকা খরচ হবে। দিল্লির কাছে কি এই পরিমাণ টাকা আছে ?" প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কথায়, "আটক কুকুরদের খাওয়ানোর জন্য সপ্তাহে আরও পাঁচ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে ৷" তিনি শীর্ষ আদালতের রায়ের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ৷

