আমেদাবাদ দুর্ঘটনার জের, আতঙ্কিত বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা
বিমানবন্দরের কাছে থাকা লোকজন বহুতল ভবনে বাস করেন । আমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার পর তাঁরা তাঁদের ছাদে যেতেও ভয় পাচ্ছেন ।

Published : June 15, 2025 at 7:57 PM IST
দেরাদুন, 15 জুন: আমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনায় 270 জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু নাড়িয়ে দিয়েছে দেশকে ৷ এই ঘটনার পর আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন জলি গ্রান্ট বিমানবন্দরের কাছে বসবাসকারী লোকজন ৷
এই বিমানবন্দরটি দেরাদুন শহর থেকে 18 কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং প্রতিদিন 14টি শহরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী প্রায় 35টি বিমান ওঠানামা করে । এর কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষদের মধ্যে রয়েছে তেহরি বাঁধের বাসিন্দা এবং অন্যান্য স্থান থেকে আসা অভিবাসীরা । এইসব লোকেরা বহুতল ভবনে বাস করেন । কাছাকাছি একটি মেডিক্যাল কলেজও রয়েছে ৷ যেখানে শত শত শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে ।
দিল্লির দিকে যাওয়ার বিমানগুলি দোইওয়ালা এবং রাজাজি জাতীয় উদ্যানের উপর দিয়ে যায় এবং হায়দরাবাদ, আমেদাবাদ, মুম্বই, কলকাতা ও অন্যান্য শহরের দিকে যাওয়ার বিমানগুলি আবাসিক কলোনির উপর দিয়ে যায় ।
বিমানবন্দরের কাছাকাছি বসবাসকারী পঞ্চম সিং নেগি বলেন, "আগে আমাদের মাথার উপর দিয়ে হেলিকপ্টার এবং বিমান উড়ে যাওয়া নিয়ে খুব একটা মাথাব্যথা ছিল না ৷ কিন্তু আমেদাবাদ দুর্ঘটনার পর থেকে এখন ভয় লাগে । আমেদাবাদ বিমানবন্দরের আশেপাশের জনবহুল এলাকার ক্ষয়ক্ষতির কারণে কেবল আমার পরিবারই নয়, আশেপাশের বাসিন্দারাও আতঙ্কিত । আমরাও একই রকম পরিবেশে থাকি । অবতরণকালে বড় বিমানগুলি কম্পন সৃষ্টি করে ৷ এর ফলে আমাদের বাসনপত্র রান্নাঘরের স্ল্যাব থেকে পড়ে যায় এবং উৎপন্ন শব্দও খুব ভয়ঙ্কর হয় ৷"
আরেক বাসিন্দা রাজেশ্বরী দেবী তাঁর বাড়ির ছাদে যাওয়ার সিঁড়িটা আটকে দিয়েছেন ৷ যাতে শিশু এবং বয়স্করা সেখানে যেতে না পারে । তিনি বলেন, "আমেদাবাদ দুর্ঘটনার পর আমরা ভাবতে বাধ্য হচ্ছি যে আমরা কি একই ধরণের ঝুঁকির মধ্যে আছি । আমার পরিবারের ছাদে ঘুমানো বন্ধ করে দিয়েছি এবং আমার বাড়িতে আসা অতিথিরা প্রায়শই এত কাছ থেকে বিমান অবতরণ এবং উড্ডয়নের ভয় পান ।" তিন প্রশ্ন তোলেন, "যখন এত বিশাল বিমান তার পথে দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে পারে, তখন এখানে আসা ছোট এবং বড় বিমানগুলি কতটা নিরাপদ?"
সূত্রের খবর, জলি গ্রান্ট বিমানবন্দরের কাছাকাছি এলাকায় প্রায় 20 হাজার মানুষ বাস করে । রানওয়ের খুব কাছাকাছি বসবাসকারীরা অন্যত্র পুনর্বাসনের চেষ্টা করছেন ৷ কারণ তাঁরা নিশ্চিত যে বিমানবন্দরটি শীঘ্রই সম্প্রসারিত হবে । আমেদাবাদ দুর্ঘটনার দুই দিন পর 14 জুন দুপুর 2টায় এখান থেকে আমেদাবাদগামী বিমানগুলি ওড়া শুরু করে ।
গুজরাতগামী প্রায় 90 জন যাত্রী নিয়ে বিমান ছাড়ার অপেক্ষায় ছিল এবং বিমানবন্দরে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের ঘটনাও ঘটেছে । তাতে থাকা আমেদাবাদের বাসিন্দা হিতেশ বলেন, "আমাদের কথা শোনার কেউ না থাকায় আমরা দুই দিন ধরে সমস্যায় পড়েছিলাম । আমাদের বলা হচ্ছিল যে বিমানে কারিগরি ত্রুটি রয়েছে এবং তাই বিমান কখন ছাড়বে তার ঠিক নেই ৷" তিনি জানান, বিমানটি ভোর 4টেতে আমেদাবাদে পৌঁছেছে । বর্তমানে জলি গ্রান্ট বিমানবন্দর স্বাভাবিকভাবেই কাজ করছে ৷ যদিও বিমান যাত্রীর সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে বলে জানা গিয়েছে ।
উল্লেখ্য, সাধারণত বিমানবন্দরগুলি শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত হওয়ার কথা যেখানে খুব কম লোকের বাস । কিন্তু বিমান ভ্রমণের সুবিধা প্রদানকারী বেশিরভাগ শহরেই তা হয় না । আমেদাবাদে সম্প্রতি এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ড্রিমলাইনার দুর্ঘটনার ফলে এই বিষয়টি আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে এবং বিমানবন্দরের কাছাকাছি বসবাসকারী লোকেরা তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন । উত্তরাখণ্ডের রাজধানী দেরাদুনের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার পরিস্থিতিও আলাদা নয় । জলি গ্রান্ট বিমানবন্দরের কাছাকাছি বসবাসকারী লোকেরা তাঁদের ছাদে যেতেও ভয় পাচ্ছেন ।

