নামী স্কুলে চাঞ্চল্য, 16 বছরের ছাত্রকে যৌন নির্যাতন চল্লিশের শিক্ষিকার
ছাত্রের সঙ্গে জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন স্কুল শিক্ষিকার ৷ ওই নাবালককে ভয় দেখিয়ে হোটেলে নিয়ে গিয়ে মদ্যপান করাতেন শিক্ষিকা ৷

Published : July 4, 2025 at 7:20 PM IST
মুম্বই, 4 জুলাই: দাদরের এক নামী স্কুলে ছাত্রকে যৌন নির্যাতন শিক্ষিকার ৷ 2023 সালে ওই শিক্ষিকা স্কুলের বার্ষিক অনুষ্ঠানে প্রথমবার ছাত্রকে কুপ্রস্তাব দেন বছর চল্লিশের এক শিক্ষিকা ৷ গত বছর জোর করে এক পাঁচতারা হোটেলে নিয়ে যান ছাত্রটিকে তিনি ৷ সেই থেকেই যৌন লালসার শিকার হতে হয় 16 বছরের ছাত্রটিকে ৷ দশম শ্রেণির ছাত্রটি স্কুলও বদালেও শিক্ষিকা পিছু ছাড়েননি ৷ কয়েকদিন আগে ছেলেটির পরিবার থানায় অভিযোগ দায়ের করে ৷
জোরপূর্বক যৌন সম্পর্কে লিপ্ত করানোর অভিযোগে ওই মহিলা শিক্ষিকাকে গ্রেফতার করে পুলিশ ৷ মুম্বই সেশন কোর্ট নির্দেশ দেয় অভিযুক্তকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রাখার ৷ সেইসঙ্গে 40 বছর বয়সি শিক্ষিকাকে বর্তমানে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়মিত চিকিৎসা করানো হচ্ছে ৷
অভিযুক্ত শিক্ষিকা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে চিকিৎসাধীন
বুধবার শিক্ষিকার আইনজীবীরা আদালতে একটি আবেদন জমা দেন ৷ সেইসঙ্গে তাঁদের মক্কেলের মনোরোগের বিষয়টিও উল্লেখ করেন ৷ তাঁরা দাবি করেন, পুলিশি হেফাজতে থাকলে তার শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে ৷ তাই এই মামলার সমস্ত তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার আদালত অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতের পাঠানোর নির্দেশ দেন ৷
ঘটনাটি কী ?
দাদর এলাকার এক নামী স্কুলের এমন ঘাটনায় শোরগোল পড়ে যায় মায়ানগরীতে ৷ ওই শিক্ষিকা 16 বছরের ছাত্রকে দীর্ঘদিন ধরে যৌন নির্যাতন করে আসছেন বলে অভিযোগ। এই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে যৌন অপরাধ থেকে শিশুদের সুরক্ষা আইন (পকসো)-এর অধীনে মামলা দায়ের করা হয় ৷ জানা গিয়েছে, মহিলা শিক্ষিকা বিবাহিত ও তাঁর একটি সন্তানও রয়েছে ৷

স্কুলের বার্ষিক অনুষ্ঠানে ঘটনার সূত্রপাত
2023 সালের ডিসেম্বর, তখন স্কুলের বার্ষিক অনুষ্ঠান চলছে ৷ তখনই ছাত্রের দিকে নজর যায় শিক্ষিকার ৷ তারপর থেকে নানা অছিলায় কাছে ডাকা ৷ গায়ে স্পর্শ করা ৷ এরপর 2024-এর জানুয়ারিতে, শিক্ষিকা গাড়িতে করে ছাত্রকে মুম্বই বিমানবন্দরের পাশে একটি পাঁচতারা হোটেলে নিয়ে যান ৷ যৌন নির্যাতন করেন। এরপর বারংবার জোরপূর্বক যৌন লালসার শিকার হতে হয় দশম শ্রেণির পড়ুয়াটিকে ৷
মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হতে থাকে ছাত্রটি
এরপর সকলের থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যেতে থাকে নাবালক ছাত্রটি ৷ শিক্ষিকার থেকেও নিজেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে বহুবার। কিন্তু ওই শিক্ষিকা অন্য শিক্ষক বা অন্যান্য ছাত্রদের দিয়ে ফোন করিয়ে তার সঙ্গে কথা বলতে থাকে ৷ ধীরে ধীরে ঘরের মধ্যে নিজেকে গুটিয়ে নেয় ছাত্রটি ৷ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলাও বন্ধ করে দেয় মানসিকভাবে বিধ্বস্ত পড়ুয়াটি ৷ ভয় দেখিয়ে বাড়ি থেকে জোড় করে নিয়ে গিয়ে ওই শিক্ষিকা ছাত্রটিকে মদ্যপানও করিয়েছে ৷ মানসিক চাপ কমাতে ট্যাবলেটও দেন বলেও অভিযোগ ৷ এই সমস্ত কিছুই পুলিশি তদন্তে উঠে আসে ৷
সম্মানহানির ভয়ে নির্যাতন উপেক্ষা করেছিলেন ছেলেটির বাবা ও মা
কী হয়েছে ছেলের সঙ্গে, কিছু একটা সন্দেহ করে বারবার বাবা ও মা তাকে জিজ্ঞাসা করতে থাকে ৷ বারবার জিজ্ঞাসাবাদে মাকে সব কথা খুলে বলে ৷ বাবা-মায়ের কাছে এই সম্পর্কের কথা জানানোর পর সম্মানহানির জন্য তাঁরা বিষয়টি চেপে রাখে ৷ তাঁরা ভেবেছিলেন, দশম শ্রেণির পর ছেলের তো স্কুল এমনিই বদলে যাবে, তখন শিক্ষিকা পিছু নেওয়া বন্ধ করে দেবেন ৷
এমনটা হয়ও ৷ ছেলেটি স্কুল ছেড়ে চলে যায়। কিন্তু শিক্ষিকা পিছু ছাড়েননি ৷ ছাত্রকে হয়রানি করতেই থাকে। অবশেষে হতাশায় বাবা-মা দাদর থানায় ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ শিক্ষকের বিরুদ্ধে পকসো আইনের 4, 6 এবং 17 নম্বর এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের হয় ৷

