ETV Bharat / bharat

ইউনূসের নিন্দায় মুখর বিজেপি-কংগ্রেস, ভারতের বিদেশনীতি নিয়ে সরব বিরোধীরা

বাংলাদেশ প্রশাসনের মুখ্য উপদেষ্টা ইউনূসের উত্তর-পূর্ব ভারত নিয়ে মন্তব্যে বিজেপি-কংগ্রেস সমালোচনায় এক হয়েছে ৷ এদিকে দেশের বিদেশনীতি দুর্বল বলে আক্রমণ করেছে বিরোধীরা ৷

Etv Bharatবাংলাদেশ প্রশাসনের মুখ্য উপদেষ্টা ইউনূসের উত্তর-পূর্ব ভারত নিয়ে মন্তব্যে বিজেপি-কংগ্রেস সব দলই সমালোচনায় মুখর হয়েছে ৷ সঙ্গে বিদেশনীতি দুর্বল বলে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা ৷ Bangladesh Interim Govt Chief Adviser Professor Muhammad Yunus meets Xi Jinping, President of the People’s Republic of China in People's Great Hall, Beijing
বেজিং সফরে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশ প্রশাসনের মুখ্য উপদেষ্টা ইউনূস (ছবি সৌজন্য: বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী প্রশাসনের এক্স হ্যান্ডেল)
author img

By PTI

Published : April 1, 2025 at 8:27 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

নয়াদিল্লি, 1 এপ্রিল: ভারতের উত্তর-পূর্বে চিনের দখলদারি নিয়ে বারবার সরব হয়েছে কংগ্রেস-সহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলি ৷ দেশের জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার উদাসীন বলেও অভিযোগ করেছে বিরোধী শিবির ৷ এদিকে সম্প্রতি চিনে ইউনূস তাঁর মন্তব্যে উত্তর-পূর্ব ভারতের কথা উল্লেখ করেছেন ৷

তাঁর মন্তব্য যেন সেই আগুনে ঘৃতাহুতি দিল ৷ ভারতের বিদেশ নীতি নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলল কংগ্রেস-সহ বিরোধীরা ৷ কিন্তু বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী প্রশাসনের মুখ্য উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে সমালোচনায় এক হয়েছে দুই বিরোধী বিজেপি-কংগ্রেস ৷

কী বলেছেন ইউনূস ?

সম্প্রতি চিনে চারদিনের সফরে গিয়েছিলেন মুখ্য উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ৷ বেজিংয়ে তিনি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দেখা করে ন'টি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন ৷ এই সফরের একটি ভিডিয়ো সোমবার সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে ৷ সেখানে ইউনূস বলেন, "ভারতের পূর্ব দিকে সাতটি রাজ্যের চারদিকে শুধুই স্থলভাগ ৷ সমুদ্রের আসার কোনও রাস্তা নেই ৷ এদের সাতটি বোন বলে ডাকা হয় ৷ এখানে সমুদ্রে একচ্ছত্র আধিপত্য আমাদেরই ৷ তাই এই অংশে (চিনের) বাণিজ্যের একটা বিরাট সম্ভাবনা রয়েছে ৷ এই জায়গাটি ব্যবহার করে চিন তাদের অর্থনীতির প্রসারণ করতে পারে ৷ (চিন) জিনিসপত্র তৈরি করুক, বাজারে বিক্রি করুক ৷ এই সমুদ্র পথে চিনে পণ্য নিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে সেখান থেকে বিশ্বের সর্বত্র সেইসব সামগ্রী ছড়িয়ে দেওয়া যায় ৷" প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অর্থনৈতিক সচিব সঞ্জীব সান্যাল এই ভিডিয়োটি সোমবার সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন ৷

এই ভিডিয়ো সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে দেশের রাজনীতিতে ৷ কংগ্রেস নেতা পবন খেরা সোমবার এই ভিডিয়োটি শেয়ার করে লেখেন, "ভারতকে ঘিরে রাখতে বাংলাদেশ চিনকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে ৷ বাংলাদেশ সরকারের এই মানসিকতা উত্তর-পূর্ব ভারতের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক ৷ কেন্দ্রীয় সরকার মণিপুর নিয়ে কোনও পদক্ষেপ করছে না ৷ এদিকে চিন ইতিমধ্যে অরুণাচলে গ্রাম তৈরি করে ফেলেছে ৷ আমাদের বিদেশ নীতির অবস্থা খুব শোচনীয় ৷ যে দেশ গড়ে তোলার নেপথ্যে ভারতের মুখ্য ভূমিকা রয়েছে, সেই দেশই আজ আমাদের সঙ্গে শত্রুতা করছে ৷"

মঙ্গলবার সংসদ চত্বরে শিবসেনা (ইউবিটি) সাংসদ প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী সংবাদসংস্থা পিটিআইকে বলেন, "এই মন্তব্য অত্যন্ত লজ্জার ৷ তিনি চিনের বাণিজ্যের জন্য আমাদের দেশের কয়েকটি অঞ্চলের নাম নিয়েছেন ৷ আমার মনে হয়, এই বিষয়ে ভারতের এবার কড়া ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ৷ দেশের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বিপন্ন ৷"

অধ্যাপক ইউনূসের এহেন মন্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন অসমের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা ৷ তিনি এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, "বাংলাদেশের তথাকথিত অন্তর্বর্তী প্রশাসনের মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর মন্তব্যে উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্যকে স্থলভাগে আবদ্ধ বলে উল্লেখ করেছেন ৷ তিনি বাংলাদেশকে সমুদ্রের অভিভাবক বলেছেন ৷ এই মন্তব্য আপত্তিকর ৷ এর তীব্র ধিক্কার জানাচ্ছি ৷ এই ধরনের উসকানিমূলক মন্তব্যকে হালকা ভাবে নেওয়া উচিত না ৷ ওদের কৌশলী চিন্তাভাবনার সূত্র অনেক গভীরে প্রোথিত ৷ এই স্বার্থ দীর্ঘদিনের ৷"

গত সপ্তাহে চিনে গিয়ে মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, "আমরা চিনকে আমাদের ভালো বন্ধু হিসাবে দেখি ৷ এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ৷" তিনি চিনের নিজস্ব সংবাদসংস্থা জিংহুয়া নিউজ এজেন্সিকে একটি সাক্ষাৎকারে জানান, বাংলাদেশ চিনের সঙ্গে নতুন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক তৈরির আশা করছে ৷

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত 5 অগস্ট বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসে আশ্রয় নিয়েছেন ৷ এরপর 8 অগস্ট দেশের অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠিত হয় ৷ মুখ্য উপদেষ্টা হন শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূস ৷ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ভারতের প্রতি তাদের ভাবনাও বদলে যায় ৷ সেদেশে হিন্দু-সহ অন্য সংখ্যালঘুদের উপর হিংসা, অত্যাচারের ঘটনায় ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ক্রমশ তিক্ত হতে থাকে ৷ চিনের ইউনূসের এহেন মন্তব্যে সেই তিক্ততা আরও বৃদ্ধি পেল ৷