গ্রিন করিডরে বিমানবন্দরে, ভুবনেশ্বর থেকে এয়ারলিফ্টে দিল্লি এইমসে দগ্ধ নাবালিকা
শনিবার পুরী জেলার বড়ঙ্গা এলাকায় এক নাবালিকার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় কয়েকজন দুষ্কৃতী ৷ রবিবার তাকে ভুবনেশ্বর এইমস থেকে দিল্লি এইমসে নিয়ে যাওয়া হল ৷

Published : July 20, 2025 at 2:10 PM IST
ভুবনেশ্বর, 20 জুলাই: দগ্ধ নাবালিকাকে এয়ারলিফ্টের মাধ্যমে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হল ৷ শনিবার সকালে 15 বছর বয়সি এক নাবালিকার গায়ে দাহ্য তরল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় তিন দুষ্কৃতী ৷ তাকে ভুবনেশ্বরের এইমস হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ৷ সরকারি সূত্রে খবর, আরও ভালো চিকিৎসার জন্য রবিবার সকালে তাকে এয়ারলিফ্ট করে দিল্লির এইমস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ৷
ভুবনেশ্বরের ডিসিপি জগমোহন মীনা সাংবাদিকদের জানান গ্রিন করিডর করে ভুবনেশ্বর এইমস থেকে ওই ছাত্রীকে বিজু পটনায়েক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয় ৷ এর জন্য এক প্ল্যাটুন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল ৷ ভুবনেশ্বরের ট্রাফিক ডিসিপি তপন কুমার মোহান্তি জানান, পুড়ে যাওয়া নাবালিকাকে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি 10-12 মিনিটের মধ্যে এইমস থেকে বিমানবন্দরে পৌঁছয় ৷ অ্যাম্বুল্যান্সে অত্যাধুনিক লাইফ সাপোর্টে ওই নাবালিকাকে বিমানবন্দরে নিয়ে আসা হয় ৷ তার সঙ্গে একটি চিকিৎসকদের দল ছিল ৷ বিমানবন্দরে পৌঁছনোর পর তাকে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে তোলা হয় ৷ তাকে দিল্লি এইমস-এ ভর্তি করা হবে ৷
#WATCH | Bhubaneswar, Odisha: The 15-year-old girl who was set on fire by miscreants at Balanga in Puri is being brought out of AIIMS Bhubaneswar. She is being airlifted to AIIMS Delhi for further treatment. pic.twitter.com/yxuzHIVTmH
— ANI (@ANI) July 20, 2025
গত 12 জুলাই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ করে কোনও ফল না পেয়ে স্বশাসিত ওড়িশার ফকির মোহন কলেজের এক ছাত্রীর গায়ে আগুন দেন ৷ গত সোমবার ভুবনেশ্বরের এইমস হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয় ৷
এর পরের শনিবার সকালে পুরী জেলার বায়াবার গ্রামের বড়ঙ্গা এলাকায় কয়েকজন দুষ্কৃতী নাবালিকার গায়ে দাহ্য তরল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয় ৷ মেয়েটি সেই সময় বন্ধুর বাড়ি থেকে ফিরছিল ৷ ঘটনাটি ঘটে ভার্গবি নদীর ধারে ৷ তার শরীরের 70 শতাংশ পুড়ে গিয়েছে ৷ ভুবনেশ্বর এইমসে সে অক্সিজেন সাপোর্টে ছিল ৷ এইমস-এর বার্ন সেন্টার ডিপার্টমেন্টের প্রধান সঞ্জয় গিরি জানান, তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল ৷
এইমস ভুবনেশ্বরের এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর আশুতোষ বিশ্বাস বলেন, "আমরা ফ্লুইড ট্রিটমেন্ট করছিলাম ৷ 12 জন চিকিৎসকের একটি দল এবং দু'জন আধিকারিক স্তরের নার্স তার দেখাশোনা করছিল ৷ তার অবস্থা স্থিতিশীল ৷ তাকে এয়ারলিফ্ট করে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব ৷ দিল্লি এইমস-এও খবর পাঠানো হয়েছে ৷ বিশেষ বিমানে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ৷"
মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি গতকালই জানিয়েছিলেন, নাবালিকাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিল্লিতে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে ৷ চিকিৎসকরা সায় দিলে তবেই সেটা সম্ভব বলে জানিয়েছিলেন তিনি ৷ গতকাল দুর্ঘটনার পর নাবালিকা পুলিশের সঙ্গে কথা বলতে পেরেছিল ৷ এইমস ভুবনেশ্বরের আইসিইউ-তে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তার বয়ান রেকর্ড করা হয় ৷
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, রাস্তায় ওই নাবালিকার পথ আটকায় তিন জন যুবক ৷ তারা বাইকে করে এসেছিল ৷ রাস্তা থেকে জবরদস্তি নাবালিকাকে তুলে দুষ্কৃতীরা তাকে ভার্গবি নদীর ধারে নিয়ে যায় ৷ তার গায়ে দাহ্য তরল পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় দুষ্কৃতীরা ৷
পুলিশ সূত্রে খবর, নাবালিকার গায়ে আগুন ধরে যাওয়ার পরই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় তারা ৷ স্থানীয়রা মেয়েটির চিৎকার শুনে ছুটে আসে এবং গায়ের আগুন কোনওমতে নিভিয়ে তাকে প্রথমে পিপিলি সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায় ৷ সেখান থেকে তাকে ভুবনেশ্বরের এইমস হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় ৷ নাবালিকার মা বড়ঙ্গা থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন ৷ মেয়েটি অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষায় পাশ করতে পারেনি ৷ তারপর আর সে পড়াশোনা করেনি ৷ তার বাবা গ্যারেজে কাজ করেন ৷

