সঙ্গীদের বিশ্বাসঘাতকতাই ধরিয়ে দেয় শীর্ষনেতা বাসবরাজুকে, দাবি মাও বিবৃতিতে
এনকাউন্টারে বাসব রাজুর মৃত্যু হয়নি, জীবিত ধরা হয়েছিল তাঁকে ৷ এমনই দাবি করা হয়েছে একটি মাও বিবৃতিতে ৷

Published : May 27, 2025 at 6:26 PM IST
|Updated : May 27, 2025 at 8:50 PM IST
নারায়ণপুর, 27 মে: মাওবাদী নেতা বাসব রাজুর খোঁজ পুলিশকে দিয়েছিল মাওবাদীরাই ৷ তাঁর মৃ্ত্যুর নেপথ্যে রয়েছে অন্তর্ঘাত ৷ বহু মাওবাদী সদস্য পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল ৷ তারাই অবুঝমাড়ের গভীর জঙ্গলে মাওবাদী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কেশব রাওয়ের অবস্থান পুলিশকে বলে দিয়েছিল ৷ বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল ৷ সেই সন্ধান হাতে পেয়ে সম্প্রতি ছত্তিশগড়ে বড়সড় এনকাউন্টার করে নিরাপত্তাবাহিনী ৷ কেশব রাও ওরফে বাসব রাজুকে জীবিত অবস্থায় ধরেছিল এবং পরে তাঁকে গুলি করে হত্যা করে ৷ সোমবার একটি বিবৃতিতে এই দাবি করেছেন সিপিআই (মাওবাদী) দণ্ডকারণ্যম স্পেশাল জোনাল কমিটির মুখপাত্র বিকল্প ৷
গত 21 মে ছত্তিশগড়-তেলেঙ্গানা সীমানায় অবস্থিত নারায়ণপুরে নিরাপত্তাবাহিনীর এনকাউন্টারে মৃত্যু হয় সিপিআই (মাওবাদী) সাধারণ সম্পাদক নাম্বালা কেশব রাও ওরফে বাসব রাজুর ৷ প্রাথমিকভাবে পুলিশ দাবি করেছে, ওই অভিযানে 27 জন মাওবাদী প্রাণ হারিয়েছে ৷ যদিও মুখপাত্র বিকল্প দাবি করেছেন, কেশব রাও-সহ মৃত মাওবাদীদের সংখ্যা 28 ৷ একটি দেহ পুলিশ সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল ৷
বিকল্প ওই বিবৃতিতে জানান, "গত ছ'মাস ধরে অবুঝমাড়ের জঙ্গলে দাদার (বাসব রাজু) লোকেশনে নজর রাখছিল পুলিশ ৷ তারা জেনে গিয়েছিল দাদা কোথায় রয়েছেন ৷ যে সব মাওবাদীরা আত্মসমর্পণ করেছে, তাদের মধ্যে একজন গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ইউনিটের সদস্য ৷ তারাই পুলিশকে বাসবরাজুর কোথায় থাকতে পারে, তা জানিয়ে দিয়েছিল ৷ সেই তথ্য নিয়ে পুলিশ জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারিতে তল্লাশি অভিযান চালায় ৷ কিন্তু প্রাথমিক তল্লাশিতে তারা ব্যর্থ হয় ৷"
গত 17 মে থেকে ওরসা, নারায়ণপুর, কোনদাগাঁও, দান্তেওয়ারা এবং বিজাপুরের পুলিশ বাহিনী অবুঝমাড়ের জঙ্গলে বাসবরাজুর এলাকা ঘিরে রেখেছিল ৷ 20 হাজার জওয়ান ছিল সেখানে, জানিয়েছেন মাওবাদী মুখপাত্র বিকল্প ৷ ওই বিবৃতিতে বিকল্প আরও জানিয়েছে, "19 মে পাঁচটি এনকাউন্টার হয়েছিল ৷ কিন্তু কারও মৃত্যু হয়নি ৷ 21 মে খুব ঘনঘন গুলিগোলা চলতে থাকে ৷ মাওবাদীদের একেবারে ঘিরে রাখা হয়েছিল ৷ তাদের কাছে খাবার, জল কিছুই ছিল না ৷ 60 ঘণ্টা তারা এভাবে কাটিয়েছিল ৷ দলে ছিল মাত্র 35 জন ৷ তাও তারা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গিয়েছে ৷"
নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে গুলিযুদ্ধে মৃত্যু হয়েছিল মাওবাদী কমান্ডার চন্দনের, জানিয়েছেন মুখপাত্র বিকল্প ৷ কয়েকজন মাত্র নিরাপত্তাবাহিনীর বেড়াজাল টপকে পালিয়ে যেতে পেরেছিল ৷ বাকিরা ওই ঘন ঘন গুলিযুদ্ধে বন্দি হয়ে পড়েছিল ৷ বিকল্প লেখেন, "একেবারে শেষে 35 জনের মধ্যে 28 জনের মৃত্যু হয় ৷ দাদাকে ওরা জীবিত অবস্থাতেই ধরেছিল ৷ পরে পুলিশ গুলি করে হত্যা করে ৷ মাত্র সাতজন পালিয়ে যায় ৷"
বিকল্পের কথায়, "আমি স্বীকার করে নিচ্ছি দাদাকে বাঁচাতে ব্যর্থ হয়েছে আমাদের দল ৷ কৌশলী কারণে দাদার নিরাপত্তায় 60 জন থেকে কমিয়ে 35 জন সদস্যকে রাখা হয়েছিল ৷ অভিযানের সময় পিছু হটতে চাননি দাদা ৷ আর তিন বছর দায়িত্বে থাকার কথা ছিল দাদার ৷ তরুণ নেতাদের রক্ষা করতেই হবে ৷ তিনি তাঁর শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আমাদের পথ দেখিয়ে গিয়েছেন ৷"
কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ উত্থাপন করে বিকল্প জানান, "21 মে ভারতের বিপ্লবের ইতিহাসে একটা কালো দিন হয়ে থাকবে ৷ পাকিস্তান যখন সংঘর্ষ স্থগিতের বার্তা দিয়েছে, তখনই ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার তাতে সম্মতি জানিয়েছে ৷ কিন্তু আমরা বারবার আলোচনার কথা জানিয়েছি ৷ সেটা অগ্রাহ্য করা হয়েছে ৷ আমি সাধারণ মানুষের কাছে প্রকৃত দেশপ্রেমিকদের সমর্থনের আর্জি জানাব ৷ যাঁরা মানুষ, জমি ও পরিবেশকে বাঁচাতে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন ৷"

