তাংমার্গ বীজ ব্যবহার করে লাদাখে কেশর চাষের উদ্যোগ
সিএসআইআর-আইআইআইএমের সহযোগিতায় লাদাখের কৃষি বিভাগ এই বছর পরীক্ষামূলকভাবে কেশর চাষ করতে চলেছে ৷ পড়ুন রিনচেন আংমো চুমিকচানের বিশেষ প্রতিবেদন ৷

Published : March 9, 2025 at 7:08 PM IST
লেহ, 9 মার্চ: কেশর চাষে খ্যাত কাশ্মীর ৷ সুগন্ধি মশলার প্রতি ভালোবাসা থেকে কাশ্মীরের বাসিন্দারা বাড়ির উঠোনে পর্যন্ত কেশর চাষ করে থাকেন ৷ তবে এবার কাশ্মীর নয়, লাদাখে চাষ হতে চলেছে কেশর । মূলত তাংমার্গ বীজ ব্যবহার করে কেশর চাষ করা হবে লাদাখে ৷
প্রশাসন স্থানীয়ভাবে এটি চাষের উদ্যোগ নিয়েছে ৷ লেহের সিএসআইআর-ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিন (আইআইআইএম)-এর সহযোগিতায় কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের কৃষি মন্ত্রক কেশর চাষে কৃষকদের সাহায্য করবে ৷ প্রযুক্তি এবং দক্ষতার উপর নির্ভর করে লেহ এবং কার্গিলে চাষ হবে কেশর ৷

সম্প্রতি কৃষি বিভাগের সচিব ভূপেশ চৌধুরী আধিকারিকদের লেহ এবং কার্গিল উভয় জেলায় কেশর চাষের উপযোগী গ্রাম এবং স্থান চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছেন । সিএসআইআর-আইআইআইএম-এর কারিগরি সহায়তায় কৃষি বিভাগ এই বছর পরীক্ষামূলকভাবে কেশর চাষ করবে। এছাড়াও কৃষি বিভাগের সচিব সিএসআইআর-আইআইআইএম-এর সঙ্গে সহযোগিতায় কৃষকদের জন্য প্রদর্শনী করা এবং কেশর চাষের উপর প্রশিক্ষণশালা নিয়ে একটি নীতি তৈরির প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন ।
গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখে কেশর চাষের জন্য জমি বরাদ্দ করা হয়েছে ৷ যার মধ্যে 2024 সালে পালাম এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে জমির জন্য একটি মৌ চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে । এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল, কেশর চাষের জন্য একটি টেকসই মডেল প্রতিষ্ঠা করা । বীজ সংগ্রহ, মাটির উর্বরতা এবং জলের প্রাপ্যতার মতো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলা করা।
লেহের পালামে অবস্থিত সিএসআইআর-আইআইআইএম পরীক্ষামূলক গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্রের জাবির আহমেদ বলেন, "আমরা 2023 সালে কেশর চাষ শুরু করেছিলাম। এভাবেই সিএসআইআর-আইআইআইএম এই প্রকল্পটি শুরু করে । লাদাখে, আমরা তিনটি মূল ধারণার উপর ভিত্তি করে কাজ করেছি । প্রথমত, প্রয়োজনীয়তা - যেহেতু কেশরের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব রয়েছে তাই চাষ জরুরি । দ্বিতীয়ত, লাদাখে সাধারণত শুধুমাত্র একটি ফসল উৎপন্ন হয় এবং কেশর বপনের পর সেপ্টেম্বর মাসে কাটা হয়, যা এটিকে একটি কার্যকর বিকল্প চাষ করে তোলে । তৃতীয়ত, লাদাখে জলের ঘাটতি রয়েছে এবং কেশর চাষের জন্য ন্যূনতম জল প্রয়োজন হয় ।"
তিনি জানান, তাঁদের গবেষণা এখনও চলছে এবং পরীক্ষামূলকভাবে এখন কেশর চাষ করা হচ্ছে । গবেষণার অংশ হিসেবে, তারা কেশরের কেমো প্রোফাইলও বিশ্লেষণ করবেন এবং লাদাখের জলবায়ুর উপর নির্ভর করে কেশর চাষ করা হবে । জাবির আহমেদ আরও বলেন, "আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল সেরা মানের বীজ পাওয়া । বর্তমানে, আমরা শ্রীনগরের তাংমার্গে থেকে আমাদের কেশর চাষের বীজ সংগ্রহ করি। যদি আমরা বীজগুলি নিয়ে পড়াশোনা করতে পারি এবং লাদাখের জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারি, তাহলে এটি এই অঞ্চলের জন্য একটি গেম চেঞ্জার হতে পারে । সেই কারণেই আমরা বীজ গবেষণার উপরও মনোযোগ দিচ্ছি ।"
কার্গিলের মিনজির বাসিন্দা মহম্মদ মেহেদী 2018 সাল থেকে কেশর চাষের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন ৷ সেসময় একটি দল তাঁকে কিছু কেশর গাছ সরবরাহ করেছিল । তিনি বলেন, "আমি এগুলো একটি ছোট জমিতে রোপণ করেছিলাম এবং ফুলও ফুটেছিল । দুর্ভাগ্যবশত, খুব শীত এবং অগভীর রোপণের কারণে ফসল টিকে থাকেনি । 2023 সালে আমি কাশ্মীরের কর্মস গাছ ব্যবহার করে আরেকটি পরীক্ষা চালিয়েছিলাম ৷ এবার আগের চেয়ে আরও গভীরে রোপণ করেছিলাম । 90 শতাংশ সাফল্যের হার সহ-ফলাফল উল্লেখযোগ্যভাবে ভালো ছিল। আমরা এমনকী সফলভাবে ফসল তুলেছি । আমার লক্ষ্য বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা ছিল না ৷ কেশর চাষ আমি শখের বশে শুরু করেছিলাম ৷" তাঁর কথায়, আমি যে কেশর সংগ্রহ করেছি তা আমার অতিথি, বন্ধুবান্ধব এবং আত্মীয়দের দিয়েছি । এর রঙ, স্বাদ এবং সুগন্ধ ঠিক কাশ্মীরি কেশরের মতো ৷"
মহম্মদ মেহেদী আরও বলেন, "জাফরান চাষে জলবায়ু পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কর্মস গাছের বেঁচে থাকার হার ছিল 95 শতাংশ । প্রথম ফুল ফোটে বীজ বপনের 50 দিন পরে ৷ প্রাথমিক ফসল তোলা হয় 53 দিন পরে । এরপর দু'দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ফসল তোলা হয় । গড়ে 1 গ্রাম শুকনো কেশর উৎপাদনের জন্য 165টি ফুলের প্রয়োজন হয়। "

