চার দশক পর খুন স্বীকার, 14'র অপরাধী 53-এ শ্রীঘরে
চার দশক আগে এক মৃগী রোগীর মৃত্যু পুলিশের কাছে স্বাভাবিক মনে হয়েছিল ৷ ঘোর কাটল সাতসকালে এক প্রৌঢ়ের হঠাৎ স্বীকারোক্তিতে ৷ গ্রেফতার প্রৌঢ় ৷

By PTI
Published : July 4, 2025 at 5:06 PM IST
কোঝিকোড়, 4 জুলাই: কিশোর বয়সের অপরাধ এতদিন মনের মধ্যে চেপে রেখেছিলেন মুহাম্মদালি ৷ কিন্তু চার দশকের 'পাপ'-এর বোঝায় ভারী হয়ে উঠেছিল তাঁর মন ৷ শুক্রবার সকালে সোজা থানায় গিয়ে নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করে নিলেন প্রৌঢ় ৷ স্বীকারোক্তির পর তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ৷ আটের দশকে হওয়া মামলার ফাইল খুলে তদন্তও শুরু হয়েছে ৷ এমন অবাক করা ঘটনাটি ঘটেছে কেরলে ৷
এদিন সকালে মালাপ্পুরাম জেলার বাসিন্দা মুহাম্মদালি স্থানীয় ভেনগারা থানায় পৌঁছন ৷ এরপর শান্ত গলায় 14 বছর বয়সে করা হত্যার কথা পুলিশের কাছে খুলে বলেন ৷ যদিও মৃতের দেহ শেষ পর্যন্ত শনাক্ত করা যায়নি ৷ কেউ দাবিও করতে আসেনি ৷
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি 1986 সালের ৷ কেরলের কোঝিকোড় জেলার থিরুভমবাডি থানা এলাকার কুডারাঞ্জি গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছিল ৷ তখন দেবস্যা নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে কাজ করত কিশোর মুহাম্মদালি ৷ দেবস্যা একদিন কিশোর মুহাম্মদালিকে যৌন হেনস্তার চেষ্টা করে ৷ তখন ক্ষণিকের রাগে এবং নিজেকে বাঁচাতে এবং কিশোর ওই লোকটিকে ধাক্কা দেন ৷ দেবস্যা সঙ্গে সঙ্গে একটি ছোট্ট নদীতে পড়ে যান ৷ এরপর আতঙ্কিত কিশোর মুহাম্মাদালি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় ৷
এই ঘটনার দু'দিন পর অবশ্য কিশোর মুহাম্মাদালি ওই অকুস্থলে গিয়েছিল ৷ পুলিশ দেবস্যার দেহ উদ্ধার করে ৷ দেবস্যার মৃত্যু অস্বাভাবিক বলে মনে হয়নি পুলিশের ৷ স্থানীয়রা জানিয়েছিলেন, দেবস্যা মৃগী রোগী ৷ তাই পুলিশ মৃত্যু নিয়ে কোনও তদন্ত করেনি ৷ দেবস্যার তরফে কেউ তাঁর দেহ দাবি করতে আসেনি ৷ শনাক্তও করা হয়নি ৷ তাই শেষে বেওয়ারিশ হিসাবেই দেবস্যার শেষকৃত্য করা হয় ৷ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ঘটনার কথাও সবাই ভুলে গিয়েছে ৷
কিন্তু মুহাম্মদালির বয়স যত বেড়েছে, ততই গভীর হয়েছে এই অপরাধের ক্ষত ৷ এই বোঝা তিনি আর বইতে পারছিলেন না ৷ তাছাড়া তাঁর ব্যক্তিগত জীবনেও অনেক বিপর্যয় নেমে এসেছে ৷ মুহাম্মাদালি হারিয়েছেন তাঁর বড় ছেলেকে ৷ ছোট ছেলে একটি দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন ৷ তখনই প্রৌঢ় মুহাম্মদালির মনে হয়েছে, এবার অপরাধ স্বীকার করতে হবে ৷ হয়তো চার দশক আগে করা অপরাধের জন্য তাঁর জীবনে একের পর এক বিপদ ঘনিয়ে আসছে ৷
তাই পুলিশের কাছে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন প্রৌঢ় মুহাম্মাদালিকে ৷ পুলিশ তাঁর স্বীকারোক্তিকে গুরুত্ব দিয়ে দেবস্যার মৃত্যুর মামলাটি ফের খুলেছে ৷ পুলিশ মুহাম্মাদালিকে ওই অপরাধস্থলে নিয়ে যায় ৷ প্রৌঢ় হত্যার জায়গাটি পুলিশকে দেখায় ৷ এবার থিরুভামবাডি থানার পুলিশ আধিকারিক কে প্রজিশের নেতৃত্বে একটি দল পুরনো ফাইলের ধুলো ঝেড়ে তদন্ত শুরু করেছে ৷ ওই খবরটি সেই সময় কোন কোন খবরের কাগজে এই রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল, তারও সন্ধান চলছে ৷ এখনও পর্যন্ত 1986 সালের 5 ডিসেম্বর একটি ছোট্ট খবর পাওয়া গিয়েছে ৷

