ভোটের মুখে বিপাকে লালু, তেজস্বী; হোটেল দুর্নীতিতে চার্জ গঠনের নির্দেশ আদালতের
সম্প্রতি, চাকরির বিনিময়ে জমি মামলায় দায়রা আদালতের কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানান আরজেডি সুপ্রিমো ৷ যদিও সেই আবেদন স্বীকার করেনি শীর্ষ আদালত ৷

Published : October 13, 2025 at 1:23 PM IST
নয়াদিল্লি, 13 অক্টোবর: বিহার বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা হয়ে গিয়েছে ৷ এই আবহে আরও বিপাকে পড়লেন রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি)-এর সুপ্রিমো লালু প্রসাদ যাদব, স্ত্রী রাবড়ি দেবী এবং পুত্র তেজস্বী যাদব ৷ আইআরসিটিসি হোটেল দুর্নীতি মামলায় সোমবার তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের নির্দেশ দিল দিল্লির একটি আদালত ৷ নির্বাচনের মুখে আদালতের এই রায়কে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ঘটনা বলে দাবি যাদব পরিবারের ৷
এদিন সিবিআই চার্জশিট মেনে রেলের এই মামলায় চার্জ গঠনের নির্দেশ দিল দিল্লির রাউস অ্যাভেনিউ আদালত ৷ ভারতীয় দণ্ডবিধির ধারা 420 (প্রতারণা) এবং 120বি (প্রতারণা) এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের অধীনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা যাবে বলে নির্দেশ দিয়েছে আদালত ৷
2004 সাল থেকে 2009 সালে দেশের রেলমন্ত্রী ছিলেন লালু প্রসাদ যাদব ৷ তাঁর তত্ত্বাবধানে ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ক্যাটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম কর্পোরেশন (IRCTC) রাঁচি ও পুরীতে রেলের দু'টি বিএনআর হোটেল পরিচালনার জন্য বেসরকারি সংস্থাগুলির হাতে তুলে দেওয়া হয় ৷ সিবিআই-এর দাবি, এই চুক্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে ৷ অভিযোগ, অনিয়মের ফলে আর্থিকভাবে লাভবান হয় সুজাতা হোটেলস প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি সংস্থা ৷
তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, হোটেলের এই চুক্তির বিনিময়ে পটনার একটি জমি লালুর পরিবার ঘনিষ্ঠ ডেলিগেট মার্কেটিং প্রাইভেট লিমিটেড নামক একটি সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হয় ৷ তৎকালীন বাজার মূল্যের থেকে অনেক কম টাকায় এই হস্তান্তরের পুরো বিষয়টি সম্পন্ন হয় ৷ এই মামলায় চার্জশিট জমা করে সিবিআই ৷ চার্জশিটে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ভারতীয় দণ্ডবিধির ধারা 120বি অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং জালিয়াতির অভিযোগ তোলা হয় তদন্তকারী সংস্থার তরফে ৷ সেই সঙ্গে, চুক্তিটি সহজতর করার জন্য সরকারি পদের অপব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করে সিবিআই ।
তবে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে আরজেডি সুপ্রিমোর পরিবার ৷ মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি তাঁদের । লালুর পরিবারের অভিযোগ, "বিষয়টি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়া আর কিছু নয় ৷ মহাজোটকে দুর্বল করতে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির অপব্যবহার করা হচ্ছে ৷" এই মামলা প্রসঙ্গে লালু প্রসাদ আগেই জানান, তাঁর তরফে কোনও অনিয়ম হয়নি ৷ সমস্ত নিয়ম মেনেই বেসরকারি সংস্থাকে টেন্ডার তুলে দেওয়া হয়েছে ৷
দুই পক্ষের যুক্তি শোনার পর চলতি বছরের 29 মে শুনানি চলাকালীন মামলার রায় সংরক্ষণের নির্দেশ দেয় আদালত ৷ তবে, প্রযুক্তিগত কারণে সেই আদেশ স্থগিত হয়ে যায় ৷ এরপর 13 অক্টোবর রায় ঘোষণার জন্য নতুন দিন নির্ধারণ করে আদালত ৷ রায় ঘোষণার সময় অভিযুক্তদের আদালতে সশরীরে উপস্থিত থাকারও নির্দেশ দেয় আদালত ৷ আদালতের নির্দেশ মেনে দিল্লি পৌঁছন লালু প্রসাদ যাদব এবং তাঁর স্ত্রী ৷

