নজরে বাণিজ্য থেকে সীমান্তে শান্তি স্থাপন, ভারত-চিন সম্পর্কের নয়া অধ্যায়
শুল্ক নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে অবনতি ঘটেছে ভারতের ৷ এই আবহে সম্পর্ক উন্নত করার লক্ষ্যে একাধিক ঘোষণা করল এশিয়া মহাদেশের শক্তিশালী দুই দেশ ৷

Published : August 20, 2025 at 5:35 PM IST
নয়াদিল্লি, 20 অগস্ট: দুই দেশের সম্পর্কে বরাবর টানাপোড়েন চলতেই থাকে ৷ ইতিহাসেও তার প্রমাণ রয়েছে ৷ তবে সেই সমস্ত সমস্যা সরিয়ে রেখে দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী, সহযোগিতামূলক, এবং দূরদর্শী সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপ করল ভারত এবং চিন ৷ দুই দেশের মধ্যে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে, বাণিজ্য পুনরায় শুরু করতে এবং বিনিয়োগ প্রবাহ বৃদ্ধি করতে একাধিক উদ্যোগ নিল এশিয়া মহাদেশের শক্তিশালী দুই দেশ ৷
মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক সারেন চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই ৷ ফলপ্রসূ বৈঠক প্রসঙ্গে এক্স হ্যান্ডেলে পোস্টও করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৷ লেখেন, "চিনের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে ভালো লাগল ৷ গত বছর চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আমার বৈঠকের পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও উন্নত হয়েছে ৷ তিয়ানজিনে এসসিও বৈঠকের সময়ে ফের আমাদের পরবর্তী সাক্ষাত হতে পারে ৷ আপাতত সেদিকেই নজর রয়েছে ৷ ভারত ও চিনের মধ্যে স্থিতিশীল, অনুমানযোগ্য, গঠনমূলক সম্পর্ক আঞ্চলিক এবং বিশ্ব শান্তি ও সমৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে ।"
Glad to meet Foreign Minister Wang Yi. Since my meeting with President Xi in Kazan last year, India-China relations have made steady progress guided by respect for each other's interests and sensitivities. I look forward to our next meeting in Tianjin on the sidelines of the SCO… pic.twitter.com/FyQI6GqYKC
— Narendra Modi (@narendramodi) August 19, 2025
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের আগে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন চিনের বিদেশমন্ত্রী ৷ মোদির সঙ্গে বৈঠকের পর দুই দেশের তরফে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয় ৷ সেখানে বিষয়টি নিয়ে ঘোষণা করা হয় ৷ সাম্প্রতিক সময়ে শুল্ক নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে অবনতি ঘটেছে ভারতের ৷ এই আবহে সম্পর্ক উন্নত করার লক্ষ্যে এশিয়া মহাদেশের শক্তিশালী দুই দেশের ঘোষণা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে দাবি ওয়াকিবহাল মহলের ৷
মোদি ও জিনপিং বৈঠক নিয়ে দুই দেশ
ভারত ও চিনের সম্পর্কে উন্নতির লক্ষ্যে সুষ্ঠু ও স্থিতিশীল সম্পর্কের উপর জোড় দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র নোদি ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ৷ চিনের বিদেশমন্ত্রীর ভারত সফরের পর সেই বিষয়টির উপরই জোড় দিয়েছে দুই দেশ ৷ উল্লেখ্য, 2020 সালে গালওয়ান প্রদেশে সেনা সংঘাতের পর থেকে ক্রমশ তলানিতে ঠেকতে শুরু করে দুই দেশের সম্পর্ক ৷ সেই সম্পর্ক উন্নতির লক্ষ্যে সোমবার দুই দিনের ভারত সফরে আসেন চিনের বিদেশমন্ত্রী ৷
মঙ্গলবার বিশেষ প্রতিনিধি আলোচনার অধিনে ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন ওয়াং ই ৷ বৈঠকের পর 5টি বিষয়ে সীদ্ধান্ত গৃহীত হয় ৷ তার মধ্যে অন্যতম হল ওয়ার্কিং মেকানিশন ফর কনসালটেশন অ্যান্ড কোঅর্ডিনেশন (ডব্লিউএমসিসি)-এর আওতায় বিশেষজ্ঞ একটি দল গঠন করা ৷ সীমান্ত সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেবে এই দল ৷ সেই সঙ্গে, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিবেচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এই বৈঠকে ৷ ভারত-চিন সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য কার্যকর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এগিয়ে নেওয়ার জন্য WMCC-এর অধীনে একটি দল গঠনের বিষয়েও একমত হন উভয় দেশ ।
জয়শঙ্করের সঙ্গে ওয়াং ই-র বৈঠক
সোমবার জয়শঙ্কর এবং ওয়াংয়ের বৈঠকে মোট 12টি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে ৷ বিভিন্ন বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার রাজি হয়েছে দুই দেশ ৷ পাশাপাশি, সহযোগিতা বৃদ্ধি করে দুই দেশের মধ্যে সমস্য়াগুলি সমাধানের জন্যও রাজি হয়েছে দুই দেশ ৷
সেই সঙ্গে, লিপুলেক পাস, শিপকি লা পাস এবং নাথু লা পাসের মাধ্যমে ফের বাণিজ্য শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লি এবং বেজিং ৷ সেই সঙ্গে, বন্ধুত্বমূলক আলোচনার মাধ্যমে সীমান্ত সমস্যার সমাধান করে শান্তি বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুই দেশ বলে উল্লেখ রয়েছে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে ৷
খুব শীঘ্রই চিনের মূল ভূখণ্ড এবং ভারতের মধ্যে সরাসরি বিমান পরিষেবা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এই বৈঠকে ৷ সেই সঙ্গে, উভয় দেশের পর্যটক, ব্য়বসা, মিডিয়া এবং অন্যান্য যাত্রীদের ভিসা দেওয়ার বিষয়েও সম্মতি জানিয়েছে দুই দেশ ৷ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "2026 সাল থেকে চিনের অন্তর্গত কৈলাস পর্বত, গাং রেনপোচে, মানস সরোবর এবং মাপাম ইউন তসোতে অধিক মাত্রায় ভারতীয় পূণ্যার্থীদের যাত্রায় সম্মতি জানিয়েছে উভয় দেশ ৷"

