মন্দির আছে, নেই দেবতা; পূজিত হন শহিদরা
এমন মন্দিরের কথা বিশেষ শোনা যায় না ৷ মন্দির থাকলেও নেই কোনও দেব-মূর্তি ৷ স্বাধীনতা দিবসের আগে এমনই এক মন্দিরের সন্ধান দিল ইটিভি ভারত ৷

Published : August 13, 2025 at 5:50 PM IST
যমুনানগর, 13 অগস্ট: দেশ তাঁদের কাছে ছিল মায়ের মতো ৷ পরাধীনতার অন্ধকারে বেঁচে থাকা 'মায়ের' জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন দেশের দামাল যুবক-যুবতীরা ৷ তাঁদের কথা স্মরণ করা প্রতিটি দেশবাসীর কাছে এক পবিত্র কর্তব্য় ৷
এবার সন্ধান মিলল এমন এক মন্দিরের যেখানে কোনও দেব-দেবীর পুজো হয় না ৷ নেই মূর্তিও ৷ মন্দিরটি সম্পূর্ণ উৎসর্গ করা হয়েছে দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের শহিদদের জন্য ৷ হরিয়ানার যমুনানগর জেলায় রয়েছে এই বিশেষ মন্দির ৷ এখানে দেবতার পরিবর্তে শহিদদের পুজো করা হয়। স্থানীয় গুমথলা রাও গ্রামে শহিদদের কথা মাথায় রেখে তৈরি হয়েছে এই 'ইনকিলাব মন্দির'। মন্দিরে প্রায় 250 জন শহিদের মূর্তি ও ছবি রয়েছে ৷

মন্দিরটি 2000 সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ৷ ইনকিলাব শহিদ স্মারক চ্যারিটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ভারিয়াম সিং এই মন্দির নির্মাণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, "প্রথমে শহিদ ভগত সিংয়ের মূর্তি স্থাপন করা হয়েছিল। এরপর ধীরে ধীরে এই মন্দিরে প্রায় আড়াই'শো শহিদের মূর্তি ও ছবি স্থাপন করা হয়েছে। ভগত সিংয়ের পাশাপাশি সুখদেব, রাজগুরু, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু, মঙ্গল পাণ্ডের মতো বহু বিপ্লবী মূর্তি এখানে আছে।"
এটি দেশের একমাত্র মন্দির যা শুধুমাত্র শহিদদের জন্য উৎসর্গ করা হয়েছে। দেশের অন্য কোনও রাজ্যে এই ধরণের মন্দির তৈরি হয়নি বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। এখানে শহিদদেরই পুজো করা হয়। অন্য রাজ্য থেকেও মানুষ এই মন্দিরে শহিদদের পুজো করতে আসেন। এই বিষয়ে ভারিয়াম জানান, মন্দিরটি দেখতে কেবল হরিয়ানা থেকে নয়, অন্যান্য রাজ্য থেকেও হাজার হাজার মানুষ এখানে আসেন ৷ শহিদদের শ্রদ্ধা জানান। দূর-দূরান্ত থেকে আসা লোকদের জন্য এখানে বিনামূল্যে থাকার ব্যবস্থাও রয়েছে। যমুনানগরের ইনকিলাব মন্দিরে প্রতিটি ধর্মের মানুষই আসতে পারেন ৷ এই গ্রামে বিভিন্ন ধর্ম ও বর্ণের মানুষ বাস করেন। ঠিক সেই প্রেক্ষাপট থেকেই এই মন্দিরটি এই গ্রামে ঐক্যের প্রতীক হয়ে উঠছে ৷ হিন্দু, শিখ, খ্রিস্টান, মুসলিম সকল ধর্মের মানুষ শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে এই মন্দিরে আসেন।

তিনি আরও বলেন, "গ্রামের সরকারি স্কুলের উঠোনে এই ইনকিলাব মন্দিরটি নির্মিত হয়েছে। শিশুরা স্কুলে যাওয়ার আগে ইনকিলাব মন্দিরে আসে এবং শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। শুধু তাই নয়, কুরুক্ষেত্র থেকে কর্ণাল যাওয়ার প্রধান রাস্তাটিও তাঁদের গ্রামের কাছ দিয়ে যায়। এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াতকারী সকল গাড়িচালক এই মন্দিরে শ্রদ্ধা জানান।" গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধান পারভীন কুমার বলেন, "এখানে শহিদদের মন্দির নির্মিত হয়েছে। পুরো গ্রামের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ এখানে মন্দিরে শহিদদের পুজো করতে আসেন। এটি আমাদের জন্য গর্বের বিষয়।"

