জ্বালানি বন্ধ করলে কেন ? প্রকাশ্যে আমেদাবাদের অভিশপ্ত বিমানের দুই পাইলটের কথোপকথন
12 জুন ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ য়ায় 260 জনের ৷ ঠিক একমাস বাদে প্রকাশ্যে এল দুর্ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট ৷

By PTI
Published : July 12, 2025 at 7:15 AM IST
নয়াদিল্লি, 12 জুলাই: দুর্ঘটনার ঠিক আগের মুহূর্তে ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহের দুটি সুইচই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ৷ আমেদাবাদ থেকে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে উঠে এল এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য ৷ তাতে আরও বলা হয়েছে, বিমানের দুই পাইলটের মধ্যে সুইচ বন্ধ করা নিয়ে খানিকটা বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছিল ৷
সুইচ-সংশয়
ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে হওয়া একটি কথোপকথনের রেকর্ডিও উদ্ধার করা গিয়েছে ৷ সেখানে এক পাইলট অন্যজনের কাছে জানতে চাইছেন, তিনি কেন জ্বালানি সরবরাহকারী সুইচ বন্ধ করেছেন ৷ জবাবে অন্য পাইলট জানান, সুইচ তিনি বন্ধ করেননি ৷ এরপরই প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যেতেই এক পাইলট অন্যজনকে এই প্রশ্নটি করেছেন ৷
গত মাসখানেক ধরে বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত করে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিয়েছে এয়ারক্র্যাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB) ৷ সেই রিপোর্টে বিমানের সামগ্রিক পরিস্থিতি থেকে শুরু করে দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে ৷ পাশাপাশি অন্য বোয়িং 787-8 বিমান নিয়ে কোনও পদক্ষেপ করার কথা বলা হয়নি রিপোর্টে ৷
Air India stands in solidarity with the families and those affected by the AI171 accident. We continue to mourn the loss and are fully committed to providing support during this difficult time.
— Air India (@airindia) July 11, 2025
We acknowledge receipt of the preliminary report released by the Aircraft Accident…
এয়ার ইন্ডিয়ার প্রতিক্রিয়া
রিপোর্ট প্রসঙ্গে ইতিমধ্যেই প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া দিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া ৷ এক্স হ্যান্ডেলে সংস্থার তরফে লেখা হয়েছে, বিমান দুর্ঘটনায় যাঁরা স্বজন হারিয়েছেন এয়ার ইন্ডিয়া দৃঢ়তার সঙ্গে তাঁদের পাশে আছে ৷ প্রয়োজনীয় সমস্ত সাহায্যও করছে ৷ এরপরই পোস্টে লেখা হয়েছে, এএআইবির তরফ দুর্ঘটনার প্রাথমিক রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে ৷ এয়ার ইন্ডিয়া এই রিপোর্টের প্রাপ্তি স্বীকার করছে ৷ পাশাপাশি তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছে ৷ অন্য একটি প্রসঙ্গে এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, এখনও তদন্ত চলছে ৷ এই সময় তদন্তের কোনও নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে মন্তব্য করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয় ৷ দুর্ঘটনার কারণ থেকে শুরু করে এ নিয়ে যে কোনও প্রশ্নের জবাব এএআইবি-র পক্ষেই দেওয়া সম্ভব বলে মনে করে সংস্থা ৷
কখন এবং কীভাবে ?
রিপোর্টের একটি অংশে বলা হয়েছে, দুপুর 1টা 38 মিনিট নাগাদ বিমানটি উড়ান শুরু করার 30 সেকেন্ডের মধ্যে সেটি ভেঙে পড়ে ৷ তারই মধ্যে বিমানের এক পাইলট 'mayday' কল দিয়েছিলেন ৷ এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের তরফে সেই আবেদনে সাড়াও দেওয়া হয়েছিল ৷ কিন্তু বিমান থেকে আর কোনও জবাব আসেনি ৷ অন্যদিকে, বিমানের জ্বালানিও সংগ্রহ করা হয়েছে ৷ তাতে কোনও সমস্যা ধরা পড়েনি ৷
এক সেকেন্ড...
এয়ার ইন্ডিয়ার এই ড্রিমলাইনারে এনহ্যান্সড এয়ারবোর্ন ফ্লাইট রেকর্ডার ছিল ৷ তা থেকে বিমানের ভিতরে হওয়া বিভিন্ন কথোপকথন রেকর্ড করা গিয়েছে ৷ নিজেদের রিপোর্টে সেই সমস্ত তথ্যের উল্লেখ করেছে এএআইবি ৷ সেখান থেকেই জানা গিয়েছে, বিমানের দুটি ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবাহের জন্য থাকা দুটি সুইচ মাত্র এক সেকেন্ডের ব্যবধানে বন্ধ হয়েছিল ৷

কোন পথে তদন্ত ?
রিপোর্টে অনুসন্ধানের অভিমুখ কী তাও স্পষ্ট করেছে এএআইবি ৷ তারা জানিয়েছে, নানা ঘটনার মধ্য থেকে ঠিক কোন কোন কারণের জন্য এত বড় দুর্ঘটনা ঘটল তা খতিয়ে দেখতে তারা দুর্ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন সামগ্রীর পাশাপাশি অন্য কয়েকটি বিষয়কে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে ৷ ড্রোন ক্যামেরার সাহায্যে দুর্ঘটনাস্থলের বিভিন্ন ছবি সংগ্রহ করা হয়েছে ৷ দুর্ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া বিভিন্ন নমুনা সেখান থেকে সরিয়ে আমেদাবাদের বিমানবন্দরর কাছে একটি নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে ৷ বিমানের দুটি ইঞ্জিনকেও উদ্ধার করা গিয়েছে ৷ বিমানবন্দরেরই একটি জায়গায় ওই দুটি রাখা হয়েছে ৷
দুর্ঘটনার অব্যবহিত পরই শোনা গিয়েছিল, বিমানে প্রচুর পরিমাণে জ্বালানি থাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে ৷ খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানিয়েছিলেন, জ্বালানির কারণে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়েছিল ৷ আর তার জেরে যাত্রীদের বাঁচানো যায়নি ৷ এই রিপোর্টে বিমানের জ্বালানি নিয়ে কয়েকটি নির্দিষ্ট মন্তব্য করা হয়েছে ৷ প্রথমেই বলা হয়েছে, সামান্য পরিমাণ জ্বালানি পরীক্ষা করে দেখা সম্ভব হয়েছে ৷ তবে জ্বালানিতে কোনও সমস্যা ছিল না ৷
তদন্তের আগামী
বিমানে থাকা 242 জনের মধ্যে ব্রিটেনের নাগরিক বিশ্বাস কুমার রমেশ ছাড়া আর সকলেরই প্রাণ গিয়েছে ৷ বিমানবন্দরের ক্যাম্পাসের ঠিক বাইরে থাকা চিকিৎসক পড়ুয়াদের হস্টেল এবং আবাসিক চিকিৎসকদের আবাসনের উপর বিমানটি ভেঙে পড়ে ৷ সেখানেও বেশ কয়েকজনের প্রাণ গিয়েছে ৷ দুর্ঘটনার সময় আশপাশের বাড়িতে থাকা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলেছেন তদন্তকারীরা ৷ তাঁদের থেকে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে নিহতদের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট-সহ আরও বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখছেন তদন্তকারীরা ৷ বিমানের ভিতরে ঠিক কী কী হয়েছিল তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা ৷

