টাকার বিনিময়ে বিকোচ্ছে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি ! 'দাম' শুনলে আঁতকে উঠবেন
প্রতারণার এই ঘটনায় উত্তরপ্রদেশের শিকোহাবাদ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে ৷ অভিযুক্তদের নিজেদের হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ ৷

Published : March 23, 2025 at 2:10 PM IST
ফিরোজাবাদ, 23 মার্চ: বিশাল অঙ্কের টাকার বিনিময়ে দেওয়া হচ্ছে ভুয়ো ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি ৷ উত্তরপ্রদেশের ফিরোজাবাদ এলাকার জেএস বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ তুললেন দুই পড়ুয়ার ভাই ৷ শনিবার শিকোহাবাদ থানায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বাকিদের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করেন তাঁরা ৷
শিকোহাবাদ থানা এলাকার মুস্তাফাবাদ রাহচাটি গ্রামের বাসিন্দা ললিত যাদব ও প্রবাল যাদব জেএস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপ্লোমা এবং বি.টেক ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেন । কিন্তু, তাঁদের ভাই ব্রজকিশোর ওরফে বিল্লুর অভিযোগ ডিগ্রি দু'টি ভুয়ো ৷ তাঁর অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুকেশ যাদব, সহ-উপাচার্য পিএস যাদব, পরিচালক গৌরব যাদব, রেজিস্ট্রার নন্দন মিশ্র এবং বাকিরা তাঁর দুই ভাইয়ের কাছ থেকে 8 লক্ষ 50 হাজার টাকা নিয়ে এই জাল ডিগ্রি এবং ডিপ্লোমা দিয়েছে ৷

শুধু তাঁর ভাই নয়, ব্রজকিশোরের অভিযোগ মোটা অঙ্কের বিনিময়ে এই রকম বহু ছাত্রছাত্রীদের ভুয়ো ডিগ্রি দেওয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে ৷ দেওয়া হয়েছে ভুয়ো মার্কশিটও ৷ আর এই সমস্ত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জড়িত বলে তাঁর অভিযোগ ৷ এরপর শিকোহাবাদ থানায় এই প্রতারণার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন ব্রজকিশোর ৷
ঘটনাপ্রসঙ্গে শিকোহাবাদ থানার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) অখিলেশ ভাদোরিয়া জানান, গুরুতর এই অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্ত শুরু করা হয়েছে । অভিযুক্তদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলেও জানান তিনি । এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও, তা সম্ভব হয়নি ৷
উল্লেখ্য, এর আগেও জেএস বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ডিগ্রি জাল করার অভিযোগ উঠেছে ৷ 2022 সালে রাজস্থানে শরীরচর্চার শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাজস্থান সরকার ৷ জেএস বিশ্ববিদ্যালয়ের জাল ডিগ্রির সাহায্যে সেই পরীক্ষায় 254 জন উত্তীর্ণ হন বলে অভিযোগ ৷ পরে নথি যাচাইয়ের সময় পুরো বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে ৷ জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত আসন সংখ্যার থেকে কয়েকগুণ বেশি বিপিডি ডিগ্রি প্রদান করা হয়েছে ৷
ঘটনাটি প্রকাশ্য়ের আসার পর রাজস্থান পুলিশের তরফে পদক্ষেপ করা হয় ৷ গ্রেফতার হন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার নন্দন মিশ্র ও উপাচার্য সুকেশ যাদব ৷ জেলের সাজাও হয় তাঁদের ৷ পরে ছাড়া পান তাঁরা ৷

