তালিকা থেকে এবার সহজেই বাদ মৃত ভোটার, একাধিক পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের
আগামী বছর থেকে বিভিন্ন রাজ্যে রয়েছে বিধানসভা নির্বাচন । তার আগে ভোটার তালিকা ত্রুটিমুক্ত করতে বেশ কয়েকটি বিষয়ের কথা জানাল জাতীয় নির্বাচন কমিশন ।

Published : May 2, 2025 at 11:32 PM IST
নয়াদিল্লি ও কলকাতা, 2 মে: ভোটার তালিকা থেকে মৃত ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়ার বিষয়ে বড়সড় পদক্ষেপ জাতীয় নির্বাচন কমিশনের । বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এমনটাই জানানো হয়েছে ।
শাসক থেকে বিরোধী, বারবার তালিকায় ভুয়ো ভোটারের উপস্থিতি নিয়ে সরব হয়েছে সকলেই । পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে আরও একাধিক রাজ্যে আগামী বছর থেকে শুরু করে 2029 পর্যন্ত পরপর বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে । তাই তার আগেই ভোটার তালিকাকে ত্রুটিমুক্ত করতে বদ্ধপরিকর জাতীয় নির্বাচন কমিশন ।
অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, ভোটার তালিকায় ঢুকে বসে রয়েছে ভূতুড়ে ভোটার । এমনকি এমনও দেখা গিয়েছে যে, বহুদিন আগে মৃত্যু হলেও সেই ব্যক্তি ভোটার তালিকা অনুসারে এখনও জীবিত । শুধু এই রাজ্যেই নয়, দেশের অন্যান্য রাজ্যেও একই সমস্যা রয়েছে ভোটার তালিকা নিয়ে ।
তাই এবার তালিকা থেকে মৃত ভোটারদের নাম বাদ দিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন । রেজিস্ট্রার জেনারেল অফ ইন্ডিয়ার দফতরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকবে নির্বাচন কমিশন । অবশ্যই কাজটি ইলেকট্রনিক্যালি করা হবে । এর ফলে যখনই জন্ম বা মৃত্যুর রেজিস্ট্রেশন বা নথিভুক্তিকরণ করা হবে, তখনই সেই তথ্য সরাসরি নির্বাচন কমিশনে চলে যাবে এবং তা সেখানে আপডেট হবে ।
কমিশনের নয়া পদক্ষেপ :
ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের বিশেষ সফটওয়্যার বা সিস্টেমের সঙ্গে দেশের ইলেক্টোরাল রেজিস্টেশন অফিসার বা ইআরও এবং বুথ লেভেল অফিসারদের বা বিএলওদের যুক্ত করা হয়েছে । তাই নতুন করে জন্ম ও মৃত্যুর রেজিস্ট্রেশন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই তথ্য পৌঁছে যাবে কমিশনে । এরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই তথ্য নির্বাচন কমিশনের মূল সিস্টেমে আপডেট হয়ে যাবে । এই তথ্যের ভিত্তিতে ভোটার তালিকা থেকে সঙ্গে সঙ্গেই মৃত ভোটারের নাম বাদ চলে যাবে ।
তবে এই বিষয়টি নিয়ে ভোটারদের আরও আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, শুধু ইলেকট্রনিক্যালি যে আপডেট হবে তাই নয় ; কমিশনের পক্ষ থেকে ভোটারদের বাড়ি গিয়েও সরেজমিনে খতিয়ে দেখা হবে সেই তথ্য সঠিক কিনা । অর্থাৎ, যান্ত্রিক ত্রুটি থাকলেও তা শুধরে নেওয়ার অবকাশও থাকছে ।
এর পাশাপাশি সকলের উপযোগী ভোটার ইনফরমেশন স্লিপ তৈরির ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে । একজন ব্যক্তির কাছে তার বুথ এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মীদের চিহ্নিতকরণের সুবিধার জন্য নতুন ভোটার স্লিপের অক্ষরগুলির ফন্ট সাইজ যেমন বাড়ানো হয়েছে তেমনি সিরিয়াল ও পার্ট নম্বর আরও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হচ্ছে ।
ইলেকট্রনিক্যাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের মাধ্যমে নির্বাচনী কাজের জন্য যেসব বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলওদের নিয়োগ করা হয়েছে তাদের কমিশন প্রদত্ত আইকার্ড আরও বড় ও স্পষ্ট করা হয়েছে । যাতে ভোটাররা যাতে সহজেই নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত কর্মীকে চিনতে পারেন ।
পদক্ষেপ নিয়ে কমিশনের বক্তব্য :
কমিশনের মতে, বিএলও-রা যখন নির্বাচকদের ভেরিফিকেশনে বা ভোটার রেজিস্ট্রেশনের জন্য বাড়ি বাড়ি যাবেন তখন যাতে ভোটাররা তাদের সহজেই চিনতে পারেন এবং তাদের তথ্য সেই কর্মীর কাছে দেন তাই এই নতুন আইডি কার্ড তৈরি করা হয়েছে । ভোটার তালিকাকে ত্রুটিমুক্ত করতে এবং ভোট প্রক্রিয়াকে ভোটারদের কাছে আরও সহজ ও উপযোগী করতে এই তিনটি নতুন সিদ্ধান্ত যথেষ্ট কার্যকরী ভূমিকা নেবে বলেও মনে করা হচ্ছে ।

