ভোটার তালিকায় নাম নেই ! তেজস্বীর থেকে এপিক কার্ড চাইল নির্বাচন কমিশন
একটি এপিক নম্বরের উল্লেখ করে তেজস্বী যাদব দাবি করেন তাঁর নাম খসড়া ভোটার তালিকায় নেই, সেই নম্বরের বিস্তারিত চাইল নির্বাচন কমিশন ৷

By PTI
Published : August 3, 2025 at 6:08 PM IST
পটনা, 3 অগস্ট: নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকায় নাম নেই খোদ বিহার বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদবের ৷ খসড়া তালিকা প্রকাশের পরদিন শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে এমনই দাবি করেন লালু-পুত্র ৷ তেজস্বী একটি এপিক নম্বর উল্লেখ করেছিলেন ৷ কিন্তু সেই নম্বরের এপিক কার্ড কমিশনের ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়নি ৷ সাংবাদিক বৈঠকে এই প্রক্রিয়াটি করে দেখান আরজেডি বিধায়ক ৷ এবার সেই নম্বরের কার্ডটি এবার আরজেডি নেতার থেকে চাইল কমিশন ৷
গতকালই কমিশন জানায় বিরোধী দলনেতার নাম খসড়া ভোটার তালিকায় আছে ৷ এমনকী বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধরী এক্স হ্যান্ডেলে তালিকায় তেজস্বীর নামটি চিহ্নিত করে সেটি পোস্টও করেন ৷ পরে কমিশনের তরফে জানানো হয়, সাংবাদিক বৈঠকে তিনি যে এপিক নম্বরটি উল্লেখ করেছেন, সেটি একটি আলাদা নম্বর ৷ এই নম্বরের এপিক কার্ডের কোনও অস্তিত্ব নেই ৷ কিন্তু তাও বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে ৷ এদিকে তেজস্বীর নামে দু'টি এপিক নম্বর সামনে আসায় বিজেপি প্রশ্ন তোলে, বিহারের প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী তেজস্বীর কি তাহলে দু'টি ভোটার কার্ড আছে ? তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের হুমকি দিয়েছে বিরোধী শিবির ৷
तेजस्वी यादव द्वारा प्रेस कॉन्फ्रेंस करने का मूल उद्देश्य था- SIR पर भ्रम फैलाना। लेकिन चुनाव आयोग ने उनके इस झूठ का पर्दाफाश कर दिया है।
— BJP (@BJP4India) August 3, 2025
तेजस्वी यादव ने कहा कि बिहार के वोटर लिस्ट से मेरा नाम काट दिया गया है। उन्होंने मोबाइल नंबर दिखाते हुए कहा कि मेरा EPIC नंबर RAB2916120 है,… pic.twitter.com/8aL6ZGQECo
আপনার কার্ডটি পাঠান: কমিশন
এরপর রবিবার পটনার ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) বিরোধী দলনেতাকে চিঠি দিয়ে জানান, গতকাল তিনি সাংবাদিক বৈঠকে একটি এপিক নম্বরের বিষয়ে কয়েকটি মন্তব্য করেছেন ৷ সেই বিষয়ে বিস্তারিত কমিশনকে জানাতে হবে ৷ কার্ডটিও দিতে হবে ৷ সেটি কোথা থেকে কীভাবে এল তা তদন্ত করে দেখবে ভোট পরিচালন সংস্থা ৷ কারণ, এই নম্বরের এপিক কার্ড ইস্যু-ই করা হয়নি ৷
কমিশন জানিয়েছে, "2 অগস্ট সাংবাদিক বৈঠকে আপনি একটি এপিক নম্বরটি উল্লেখ করেছেন ৷ প্রাথমিক তদন্তে আমরা জানতে পেরেছি, ওই নম্বরের কোনও ভোটার কার্ড আপনাকে সরকারি তরফে ইস্যু করা হয়নি ৷ তাই আপনাকে অনুরোধ করছি, আপনার ওই এপিক কার্ডটি আমাদের পাঠান ৷ আমরা বিস্তারিত তদন্ত করে দেখব ৷"
तेजस्वी यादव द्वारा प्रेस कॉन्फ्रेंस करने का मूल उद्देश्य था- SIR पर भ्रम फैलाना। लेकिन चुनाव आयोग ने उनके इस झूठ का पर्दाफाश कर दिया है।
— BJP (@BJP4India) August 3, 2025
तेजस्वी यादव ने कहा कि बिहार के वोटर लिस्ट से मेरा नाम काट दिया गया है। उन्होंने मोबाइल नंबर दिखाते हुए कहा कि मेरा EPIC नंबर RAB2916120 है,… pic.twitter.com/8aL6ZGQECo
তেজস্বীর দাবি
গত শুক্রবার, 1 অগস্ট বিহারের প্রথম খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন ৷ দেশে ভোট আয়োজনের এই নিয়ামক সংস্থা জানিয়েছে, তালিকা থেকে 65 লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে ৷ তবে আগামী এক মাস অর্থাৎ 1 সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভোটার তালিকায় নাম তোলার আবেদন জানাতে পারবেন ৷
প্রথম খসড়া ভোটার তালিকা থেকে 65 লক্ষ নাম বাদ যাওয়া নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদব ৷ তিনি সবার সামনে নিজের মোবাইলে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে গিয়ে তাঁর এপিক নম্বর দেন ৷ এরপর তিনি দেখান যে ওয়েবসাইটে 'নো রেকর্ড ফাউন্ড' দেখাচ্ছে ৷ লালু-পুত্র বলেন, "এবার দেখুন, আমি নিজেই নথিভুক্ত ভোটার নই ৷ তাহলে আমি নির্বাচনে কী করে লড়ব ? নির্বাচনে লড়তে গেলে আপনাকে বিহারের ভোটার হতে হবে ৷ হয়তো, আমি আর ভারতীয় নাগরিক নই ৷"
বিহারে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন হওয়ার আগে থাকতে এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব ৷ তিনি বারবার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই প্রক্রিয়ায় বহু গরিব-দুঃস্থ মানুষের নাম বাদ যেতে পারে ৷ প্রায় 4 কোটি পরিযায়ী শ্রমিকরা রাজ্যের বাইরে থাকেন ৷ তাঁরা ভোটের সময় গ্রামে ফেরেন ৷ তাঁদের নামও বাদ যাবে ৷ এসআইআর-এর ফলে সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘিত হবে ৷
কী বলছে কমিশন ?
নির্বাচন কমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, তেজস্বী যাদবের এপিক নম্বর RAB0456228 ৷ 2020 সালে বিধানসভা নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় এই নম্বরটি ব্যবহার করেছিলেন তিনি ৷ 1 অগস্ট এসআইআর-এর যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, সেখানেও তাঁর নাম রয়েছে ৷ 2015 সালের ভোটার তালিকায় তাঁর এই এপিক নম্বরটিই ছিল ৷ আরেকটি এপিক নম্বর RAB2916120-এর কোনও অস্তিত্ব নেই ৷ 10 বছরেরও বেশি পুরো রেকর্ড পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে ৷ এই দ্বিতীয় এপিক নম্বরে কোনও তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি ৷ এই এপিক নম্বরটি সরকারি তরফে দেওয়া হয়নি বলেই মনে করা হচ্ছে ৷ তাও দ্বিতীয় এপিক নম্বরটি কোথা থেকে কীভাবে এল, তা নিয়ে তদন্ত চলছে ৷
প্রশাসনের পাল্টা অভিযোগ
এপিক নম্বর নিয়ে বিতর্ক শুরু হতে আরজেডি নেতা অভিযোগ করেন তাঁর এপিক নম্বরটি বদলে দেওয়া হয়েছে ৷ কিন্তু ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট থিয়াগারাজা এসএম এই দাবি খারিজ করে দেন ৷ তিনি বলেন, "2020 সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই এপিক নম্বরটি তাঁর হলফনামায় ব্যবহার করেছিলেন ৷ তাঁর কাছে যদি অন্য কোনও নম্বরের এপিক কার্ড থাকে, তাহলে সেটা তদন্তের বিষয় ৷"
বিরোধীদের আক্রমণ
এদিকে শাসক জোট এনডিএ-এ একটি সাংবাদিক বৈঠকে দাবি করে, তেজস্বী যাদবের কাছে দু'টি এপিক কার্ড থাকলে, তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হোক ৷ এই বৈঠকে বিজেপি নেতা অজয় অলোক, জেডি(ইউ) নীরজ কুমার ও এলজেপি (রাম বিলাস)-এর নেতা রাজেশ ভাট ৷
বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র সম্বিৎ পাত্র এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে তেজস্বী যাদবকে কড়া আক্রমণ শানান ৷ তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন, "তেজস্বী যাদবের সাংবাদিক বৈঠকের নেপথ্যে মূল উদ্দেশ্য ছিল এসআইআর নিয়ে বিভ্রান্ত করা ৷ কিন্তু নির্বাচন কমিশন এই মিথ্যার পর্দা ফাঁস করে দিয়েছে ৷ তেজস্বী যাদব বলেছেন যে বিহারে ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ পড়েছে ৷ তিনি মোবাইল নম্বর দেখিয়ে বলেন তাঁর এপিক নম্বর RAB2916120 ৷ কিন্তু আমার নাম কোথাও নেই ৷ এর পর নির্বাচন কমিশন ও পটনার ডিএম তদন্ত করে সত্যিটা প্রকাশ করে দিয়েছেন ৷ তিনি (ডিএম) বলেছেন, তেজস্বী মিথ্যা বলছে ৷ তাঁর নাম বাদ পড়েনি ৷ দিঘা বিধানসভায় তাঁর নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে ৷ সেই এপিক নম্বর RAB0456228 ৷ এবার তেজস্বী যাদব বলুন, দুটো এপিক নম্বর কোথা থেকে এল ? তাঁর কাছে কি দু'টি ভোটার আইডি কার্ড আছে ?"

