ETV Bharat / bharat

পরিবারতন্ত্র ! বিজেপির অভিযোগ ভোঁতা করতে কৌশল কংগ্রেসের

বিহারের একাধিক প্রবীণ নেতা নিজেদের সন্তানদের জন্য টিকিট চান ৷ তালিকায় লোকসভার প্রথম মহিলা স্পিকার মীরা কুমার থেকে শুরু করে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীাও আছেন ৷

Congress Veterans
বিজেপির অভিযোগ ভোঁতা করতে কৌশল কংগ্রেসের (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : October 11, 2025 at 7:05 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

নয়াদিল্লি ও পটনা, 11 অক্টোবর: কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বারবার পরিবারতন্ত্রের অস্ত্রে শাণ দেয় বিজেপি ৷ দলের অন্য নেতা থেকে শুরু করে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একাধিকবার দাবি করেছেন, কংগ্রেস এখন একটি পারিবারিক দলে পরিণত হয়েছে ৷ আর বিজেপি দলটি নিজেই একটি পরিবার ৷ এবার বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই অভিযোগ থেকে নিজেদের মুক্ত করার কাজ শুরু করেছে কংগ্রেস ৷

সূত্রের খবর, বিহার কংগ্রেসের একাধিক বড় নেতা নিজেদের ছেলেমেয়ে অথবা কোনও নিকট আত্মীয়ের জন্য বিধানসভায় টিকিট চেয়েছেন ৷ তবে এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ দলের শীর্ষনেতারা ৷ কোন আসনে কে জিততে পারেন সে কথা মাথায় রেখেই টিকিট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাত শিবির ৷

লোকসভার প্রথম মহিলা স্পিকার মীর কুমার, বিহার কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অখিলেশ প্রসাদ সিং, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শাকিল আহমেদ, বিধায়ক অজিত সিংয়ের মতেো অনেকেই তাঁদের নিকট আত্মীয়দের জন্য টিকিট চেয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে ৷ মীরার ছেলে অংশুল কুমার এবং অখিলেশের ছেলে আকাশ এর আগে লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে পরাজিত হয়েছিলেন ৷ এমতাবস্থায় সংসদীয় রাজনীতিতে তাঁদের যাত্রা নতুন করে শুরু করাতে চান মীরা এবং অখিলেশ ৷ তবে তাঁদের অনুরোধকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে নারাজ দলের হাইকমান্ড ৷

দলীয় সূত্রের খবর, প্রবীণ নেতাদের এভাবে নিকট আত্মীয়দের জন্য টিকিট চাওয়ার বিষয়টিকে অন্যায় হিসেবে দেখছেন না শীর্ষ নেতারা ৷ কিন্তু তাঁরা মনে করছেন, জেতার সুযোগের দিক থেকে যে আসনে কংগ্রেসের যে নেতা বা নেত্রী অন্যদের থেকে এগিয়ে তাঁর উপরই ভরসা রাখা উচিত ৷ 2020 সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিহারে আরজেডি বেশ ভালো করলেও মূলত কংগ্রেসের কারণে এনডিএ-কে হারিয়ে সরকার গড়া যায়নি ৷ অনেকগুলি আসনে লড়লেও সেভাবে দাগ কাটতে পারেনি কংগ্রেস ৷ অন্যদিকে, আসন সংখ্যার নিরিখে বিজেপির থেকে এগিয়ে থাকলেও বিরোধী আসনেই বসতে হয়েছে তেজস্বী যাদবদের ৷ এবার যাতে তেমন কিছু না হয় তা নিশ্চিত করতেই যত বেশি সংখ্যক আসন জিততে মরিয়া কংগ্রেস ৷

একটা সময় বিহার কংগ্রেসের প্রবীণ নেতাদের অনেকে চেয়েছিলেন টিকিট সংক্রান্ত তাঁদের অনুরোধ নিয়ে আলাদা করে চিন্তাভাবনা করা হোক ৷ সেই অনুরোধও খারিজ হয়ে যায় ৷ কংগ্রেসের তরফে বিহার নির্বাচনের পর্যবেক্ষক তথা এআইসিসি-র নেতা সুশীল পাল ইটিভি ভারতকে বলেন, "টিকিট বণ্টন রাজনীতির সবথেকে কঠিন কাজগুলির একটা ৷ প্রবীণ নেতারা তাঁদের ছেলে অথবা মেয়েদের জন্য টিকিট চেয়ে ভুল কিছু করেননি ৷ কিন্তু দল হিসেবে আমরা সবসময় চাই এমন নেতাদের প্রার্থী করতে যাঁরা নির্বাচনে জিততে পারবেন ৷"

এদিকে, আসন সমঝোতা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রাথমিক বোঝাপড়ায় পৌঁছে গিয়েছে এনডিএ ৷ বিজেপি ও জেডিইউয়ের পাশাপাশি চিরাগ পাসোয়ানের লোক জনশক্তি পার্টি, জিতেন রাম মাঝির হিন্দুস্তান আওয়াম মোর্চা এবং রাষ্ট্রীয় লোক মোর্চা একত্রে নির্বাচনে লড়তে সম্মত হয়েছে ৷ কাল 12 অথবা 13 অক্টোবর বিহার বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী ঘোষণা করবে এনডিএ ৷

তার আগে শুক্র ও শনিবার পটনার পাশাপাশি দিল্লিতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয় ৷ সেখানে এনডিএ-র পাঁচ শরিকের কে কটি করে আসনে লড়বে তা নিয়ে বিস্তরিত চর্চা হয়েছে ৷ এখনও পর্যন্ত যা খবর বিজেপি এবং জেডিইউ প্রায় সমসংখ্যক আসনে লড়াই করেব ৷ অতীতের বেশ কয়েকটি নির্বাচনে দেখা গিয়েছে জেডিইউ বিজেপির থেকে বেশি আসনে লড়ে ৷ এবারও সেই ঘটনা ঘটবে কি না তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আগ্রহের সঞ্চার হয়েছে ৷