ETV Bharat / bharat

মার্কিন শুল্কের কোপে বিপুল ক্ষতি চিংড়ি রফতানিতে, কেন্দ্রকে একগুচ্ছ পদক্ষেপের আর্জি নাইডুর

আমেরিকার 50 শতাংশ শুল্ক আরোপে বিপর্যস্ত চিংড়ি রফতানির বাজার ৷ এই সঙ্কট থেকে উদ্ধারে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে একাধিক পদক্ষেপের আর্জি জানালেন চন্দ্রবাবু ৷

Workers carry sacks of shrimp to load into trucks at a shrimp farm in Nellore district, Andhra Pradesh, India, on August 28, 2025
অন্ধ্রপ্রদেশের চিংড়ি রফতানিকারক বাজারে ধাক্কা (ইটিভি ভারত)
author img

By PTI

Published : September 15, 2025 at 3:35 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

অমরাবতী, 15 সেপ্টেম্বর: মার্কিনি শুল্কের কোপে প্রবল ক্ষতির মুখে পড়েছে দেশের একাধিক চিংড়ি রফতানিকারক রাজ্য ৷ এর মধ্যে অন্যতম অন্ধ্রপ্রদেশও ৷ 50 শতাংশ রফতানির অর্ডার বাতিল হয়েছে ৷ 25 হাজার কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে দক্ষিণের সমুদ্র উপকূলবর্তী এই রাজ্য ৷ এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের কাছে আর্থিক সাহায্য চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু ৷

রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্যে ভারতের উপর 25 শতাংশ জরিমানা শুল্ক আরোপ করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৷ সব মিলিয়ে 50 শতাংশ শুল্কের বোঝা চেপেছে ভারতের উপর ৷ এর ফলে আমেরিকার বাজারে ভারতের রফতানি জোরদার ধাক্কা খেয়েছে ৷

এই অবস্থায় রাজ্যের মৎস্যজীবী ও সামুদ্রিক খাদ্য রফতানির সঙ্গে জড়িত মানুষদের সমস্যার কথা জানিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনকে চিঠি লিখেছে বিজেপির শরিক দল তেলেগু দেশম পার্টি (টিডিপি) ৷ পাশাপাশি দেশের বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং মৎস্য মন্ত্রী রাজীব রঞ্জন সিংকেও আলাদা করে দু'টি চিঠি দিয়েছেন অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রী ৷ রাজ্যের মৎস্যজীবী ও সামুদ্রিক খাদ্য রফতানিতে যুক্ত ক্ষেত্রের জন্য সাহায্যের আর্জি জানিয়েছেন তিনি ৷

এই চিঠিতে নাইডু লেখেন, "আমেরিকার শুল্ক আরোপের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে চিংড়ি রফতানিতে ৷ প্রায় 25 হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অনুমান ৷ 50 শতাংশ রফতানি অর্ডার বাতিল হয়ে গিয়েছে ৷" তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, 2 হাজার কন্টেনার রফতানিতে 600 কোটি টাকা পর্যন্ত কর লাগু হয়েছে ৷

দেশে চিংড়ি তফতানির 80 শতাংশ হয় অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে ৷ পাশাপাশি সামুদ্রিক পণ্য রফতানির 34 শতাংশও ৷ বছরে 21 হাজার 246 কোটি টাকার ব্যবসা হয়, উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু ৷ এই ক্ষেত্রের উপর সরাসরি নির্ভর করে রয়েছে 2.5 লক্ষ পরিবার ৷ এছাড়া, অন্যান্য সেক্টরের 30 লক্ষ পরিবার এই চিংড়ি ও সামুদ্রিক পণ্য রফতানি থেকে জীবিকা নির্বাহ করে ৷

এই সঙ্কটের মধ্যে রাজ্য সরকার কৃষিক্ষেত্রের চাষিদের আর্থিক সাহায্য করার জন্যে উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান নাইডু ৷ তার ফলস্বরূপ মাছ ও সামুদ্রিক প্রাণীদের খাবার উৎপাদন সংস্থাগুলি প্রতি কেজিতে 9 টাকা দাম কমিয়েছে ৷ ভর্তুকি যুক্তি বিদ্যুতের ট্রান্সফর্মার দেওয়ার ভাবনাচিন্তাও করা হচ্ছে ৷

এই বিপদের সময় মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, সামুদ্রিক পণ্য রফতানিকারক সেক্টরকে বাঁচাতে দেশের মধ্যে সামুদ্রিক পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি করা থেকে শুরু করে জিএসটি, আর্থিক নিয়মকানুনকে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করতে হবে ৷ তিনি 100 কোটির তহবিল ত্রাণ তৈরির কথাও বলেছেন ৷ এর সঙ্গে বাড়তি চিংড়ি ও সামুদ্রিক পণ্য সংরক্ষণে হিমঘর তৈরি করা ৷ রাজ্য সরকার এর মধ্যে কৃষকদের থেকে সরসারি বাজারে এই পণ্যগুলি বিক্রির ব্যবস্থা করছে ৷ এর জন্য অন্ধ্র প্রদেশ শ্রিম্প প্রডিউসার্স কোঅর্ডিনেশন কমিটি তৈরি করা হয়েছে ৷

ভারতে সামুদ্রিক পণ্য ব্যবহারের পরিমাণ মাথা পিছু বছরে 12-13 কেজি ৷ যেখানে বিশ্বে এই পরিমাণ 20-30 কেজি ৷ তাই কেন্দ্রীয় সরকার দেশের মধ্যে এই পণ্যের চাহিদা বাড়াতে সচেতনতামূলক প্রচার করুক ৷ সামুদ্রিক পণ্যগুলি প্রোটিন সমৃদ্ধ ও উচ্চমানের পুষ্টিগুণযুক্ত ৷ চন্দ্রবাবু নাইডু দক্ষিণ ভারত থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সামুদ্রিক পণ্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য ট্রেন চালানোর অনুরোধ জানিয়েছেন ৷ মৎস্যচাষিদের ক্ষতির মুখ থেকে বাঁচাতে কিষাণ ক্রেডিট কার্ডের আওতায় 1 লক্ষ টাকা পর্যন্ত টপ-আপ ঋণ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ৷