বিহারে ঢুকেছে তিন পাক জঙ্গি, হাই অ্যালার্ট জারি রাজ্যে
ইতিমধ্যেই জঙ্গিদের স্কেচ প্রকাশ করে তা বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দিয়েছে বিহার পুলিশ ৷ তিনজনই পাকিস্তানের জৈশ-ই-মহম্মদের সদস্য বলে জানা গিয়েছে।

Published : August 28, 2025 at 12:19 PM IST
পটনা, 28 অগস্ট: সামনেই বিহারে বিধানসভা ভোট ৷ আর তার আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ বা রাহুল গান্ধি, সকলেই এখন ঘনঘন বিহারে যাচ্ছেন ৷ রাজ্যজুড়ে ভোটার অধিকার যাত্রা করছে বিরোধীরা ৷ এই সময়েই বিহারে তিন পাক জঙ্গি ঢুকেছে বলে দাবি পুলিশের ৷ সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই হাই অ্যালার্ট জারি করেছে প্রশাসন । সূত্রের খবর, পাকিস্তান থেকে এই তিন সন্ত্রাসী নেপাল হয়ে বিহারে প্রবেশ করেছে। তিনজনই জৈশ-ই-মহম্মদের সদস্য বলেও জানা গিয়েছে ।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, পাকিস্তান থেকে এই তিন সন্ত্রাসী নেপাল হয়ে বিহারে প্রবেশ করেছে। এদের মধ্যে একজন হাসনাইন আলি, যে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির বাসিন্দা। দ্বিতীয়জন আদিল হুসেন, সে পাকিস্তানের উমরকোটের বাসিন্দা, এবং তৃতীয়জন হল বাহাওয়ালপুরের মহম্মদ উসমান । সেও পাকিস্তানের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে । পিএইচকিউ (সর্দার প্যাটেল ভবন) এই তিনজনের পাসপোর্ট সম্পর্কিত তথ্য সীমান্তবর্তী জেলাগুলিকে পাঠিয়েছে ৷ জানা যাচ্ছে, এই তিন সন্ত্রাসী অগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে নেপালের কাঠমান্ডুতে পৌঁছেছিল । সেখান থেকে এরা গত সপ্তাহে বিহারে এসেছে ।

নেপালের সঙ্গে বিহারের সীমান্ত অত্যন্ত দীর্ঘ এবং সংবেদনশীল বলে মনে করা হয় ৷ আগেও এই রুট সন্ত্রাসী কার্যকলাপের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে । এই খবরের পর সীমান্ত এলাকায় সতর্কতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে বলে খবর ৷ পাশাপাশি এসএসবি জওয়ানদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে । বিহার পুলিশ সদর দফতরের তরফে রাজ্যের সমস্ত জেলাকেও সতর্ক করা হয়েছে । বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলা সীতামাঢ়ি, মধুবনী, পশ্চিম চম্পারণ, আরারিয়া, কিষাণগঞ্জ এবং সুপৌলের পুলিশকে অতি সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ৷
পুলিশ সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করেছে, তারা যেন যেকোনও সন্দেহজনক ব্যক্তি বা কার্যকলাপ সম্পর্কে অবিলম্বে পুলিশকে জানায় । তিন সন্ত্রাসীর ছবি এবং বিবরণও প্রকাশ করা হয়েছে পুলিশের তরফে ৷ বিহারে জৈশ-ই-মহম্মদের সন্ত্রাসীদের অনুপ্রবেশের খবর রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ফের প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে ৷ পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলি ক্রমাগত তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে বলে খবর ৷ সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতেও টহল বাড়ানো হয়েছে ৷
রেল স্টেশন, বাস স্ট্যান্ড, হোটেল, ধর্মশালা এবং জনাকীর্ণ এলাকায় তল্লাশি অভিযানও জোরদার করা হয়েছে। সন্ত্রাসীদের সম্ভাব্য কার্যকলাপের কথা মাথায় রেখে, রেল এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এজেন্সিগুলিকেও সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়াও, গোয়েন্দা সংস্থাগুলি স্থানীয় পর্যায়ে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের উপর নজর রাখছে বলে পুলিশ সূত্রে দাবি ৷
বিহারে জঙ্গি অনুপ্রবেশ যদিও এই প্রথমবার নয় । এর আগেও, বিহার-নেপাল সীমান্তে বহুবার সন্ত্রাসী এবং চোরাকারবারিদের আনাগোনা সম্পর্কে খবর এসেছে ৷ নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সহজে চলাচল এবং ঢিলেঢালা নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে এই এলাকাটিকে সন্ত্রাসবাদীরা একটি নিরাপদ রুট হিসেবে মনে করে ।

