রামমন্দির নির্মাণ আরএসএসের একার সাফল্য নয়, মত শীর্ষ নেতার
রামমন্দির নির্মাণের সাফল্য একা দাবি করতে পারে না আরএসএস। এমনই মত সঙ্ঘ পরিবারের শীর্ষনেতার। পাশাপাশি ঔপনিবেশিক মানসিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

Published : March 23, 2025 at 5:00 PM IST
বেঙ্গালুরু, 23 মার্চ: রামমন্দির নির্মাণ আরএসএসের একার সাফল্য নয় ৷ বরং একে সমাজের সার্বিক জয় হিসেবে দেখছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবালে ৷ পাশাপাশি ঔপনিবেশিক মানসিকতা দেশের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি ৷ তাঁর মনে হয়, এই চিন্তাভাবনা সম্পন্ন মানুষ দেশের ঐক্য ও নিরাপত্তার জন্য চিন্তার কারণ ৷ রবিবার কর্ণাটকে একটি অনুষ্ঠানে এমনই মত প্রকাশ করেন আরএসএসের অন্যতম শীর্ষ নেতা ৷
নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে 2024 সালের জানুয়ারি মাসের 22 তারিখ অযোধ্যায় রামমন্দির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৷ এই সাফল্য প্রসঙ্গে দত্তাত্রেয় হোসাবালে স্মৃতিচারণা করেন, "একসময় মুলায়ম সিং যাদবের (উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী) হাতে আরএসএসের কর্মীরা প্রাণ দিয়েছিলেন ৷ রামজন্মভূমি আন্দোলনের ফলে চারটি রাজ্যে সরকারও হাতছাড়া হয় (বিজেপির) ৷ কিন্তু এরপরেও অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণ আরএসএস-এর একার সাফল্য নয়, তা সমাজের সামগ্রিক সাফল্য ৷"
কর্ণাটকে তিনদিন ব্যাপী অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভার আয়োজন করেছে আরএসএস ৷ সংগঠনের শীর্ষ স্তরে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এই প্রতিনিধি সভা ৷ সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন আরএসএস-এর সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবালে ৷ সম্প্রতি মহারাষ্ট্রে একটি সমাধিক্ষেত্র নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে ৷ সেই ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যটি ৷
এই প্রসঙ্গে দত্তাত্রেয়র বক্তব্য, "মানুষের মধ্যে ঔপনিবেশিক মানসিকতা থাকলে তা দেশের জন্য বিপজ্জনক ৷ ভারতীয় নিয়ম-নীতিতে বিশ্বাসী এমন মানুষদের সমর্থন করা উচিত আমাদের ৷ ভারতের রীতি-নীতির বিরোধী এমন কাউকে কি কিংবদন্তি করে তুলব আমরা ? নাকি যিনি ভারতের চিরাচরিত প্রথা অনুযায়ী কাজ করেছেন, তাঁকে তুলে ধরব ?"
আরএসএস-এর এই শীর্ষ স্তরের নেতার কথায়, "অতীতে অনেক কিছুই ঘটেছে ৷ দিল্লিতে একসময় 'ঔরঙ্গজেব রোড' ছিল ৷ পরে তার নাম বদলে আবদুল কালাম রোড করা হয় ৷ এর নেপথ্যে কিছু কারণ ছিল ৷ ঔরঙ্গজেবের ভাই দারা শিকোকে কেউ হিরো বলেননি ৷ গঙ্গা-যমুনার সংস্কারের সমর্থকরা কখনও দারা শিকোকে সামনে আনেননি ৷"
দত্তাত্রেয় হোসাবালে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে বলেন, "স্বাধীনতা অর্জনের জন্য ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যে লড়াই হয়েছে, সেটা স্বাধীনতা সংগ্রাম ৷ যাঁরা সেই স্বাধীনতা সংগ্রামের বিরোধিতা করেছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে লড়াইটাও এক ধরনের স্বাধীনতা সংগ্রাম ৷ মহারানা প্রতাপ স্বাধীনতার জন্য লড়েছিলেন ৷ পরাধীনতার মানসিকতা থাকলে সেটা দেশের জন্য বিপদ ৷ আমাদের ঠিক করতে হবে, কার সঙ্গে থাকব ? এটা ধর্মের প্রশ্ন নয় ৷ এটা আরএসএস-এর দৃঢ় দৃষ্টিভঙ্গি ৷"

