খোরপোশের দাবি স্ত্রীর, বড় নির্দেশ হাইকোর্টের
বাড়ি ছেড়ে স্ত্রী চলে গিয়েছিলেন । পরে মামলা করেন পারিবারিক আদালতে । শেষমেশ হাইকোর্টে এসে পৌঁছল মামলা ।

Published : July 12, 2025 at 5:06 PM IST
প্রয়াগরাজ, 12 জুলাই: স্বামী এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে না থাকলে খোরপোশের দাবি জানাতে পারবেন না স্ত্রী ৷ এমনই নির্দেশ দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট ৷ বিবাহ-বিচ্ছেদ সংক্রান্ত একটি মামলায় আদালতের পর্যবেক্ষণ, স্ত্রী যদি কোনও কারণ ছাড়া স্বামী এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের ছেড়ে অন্যত্র থাকে খোরপোশ পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না ৷
মেরঠের বাসিন্দা বিপুল আগরওয়ালের করা মামলায় এই উল্লেখযোগ্য রায় দিল আদালত ৷ বিপুলের স্ত্রী নিশা তাঁদের কন্যা সন্তানকে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে গিয়েছিলেন ৷ পরে মেরঠের পারিবারিক আদালতে খোরপোশের দাবিতে মামলা করেন ৷ বিচারক রায় দেন, প্রতি মাসে খোরপোশ বাবদ 8 হাজার টাকা দিতে হবে বিপুলকে ৷
এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে এলাহাবাদ হাইকোর্টে আবেদন করেন বিপুল ৷ সেই মামলার শুনানি হয় বিচারপতি সুভাষচন্দ্র শর্মার এজলাসে ৷ শুনানির পর বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, খোরপোশের দাবি জানানোর ক্ষেত্রে স্ত্রীর স্বামী এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে থাকাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ৷ পাশাপাশি মেরঠের পারিবারিক আদালতের রায়টিও খারিজ করে দেন বিচারপতি ৷
বিপুলের আইনজীবী রজত আর্য আদালতকে জানান, নিশা বিপুল এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের ছেড়ে বাপের বাড়ি চলে গিয়েছিলেন ৷ বিপুলের পরিবারের তরফে বারবার নিশাকে অশান্তি মিটিয়ে নিতে অনুরোধ করা হয় ৷ কিন্তু তিনি ঝামেলা মিটিয়ে নিতে রাজি ছিলেন না ৷ বিপুলের বাড়ি ফিরে আসার ব্যাপারেও আগ্রহ দেখাননি তিনি ৷ দীর্ঘদিন ধরে এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে ৷
শুনানির অন্য একটি অংশে রজত দাবি করেন, নিশা মেরঠের পারিবারিক আদালতে সিআরপিসির 125 নম্বর ধারা অনুযায়ী খোরপোশের দাবি জানিয়েছিলেন ৷ কিন্তু এভাবে আবেদন জানাবার কোনও আইনি বৈধতা নেই ৷ তবু শুধুমাত্র মানবিক কারণে পারিবারিক আদালত জানায়, বিপুলকে মাসে 8 হাজার টাকা খোরপোশ বাবদ দিতে হবে ৷ শুনানি শেষে হাইকোর্ট জানায়, পারিবারিক আদালতের রায় খোরপোশের মূল ভাবনার পরিপন্থী ৷ আর তাই আগের রায় খারিজ করে আবারও মামলাটি শোনার জন্য মেরঠের পারিবারিক আদালতকে নির্দেশ দেয় এলাহাবাদ হাইকোর্ট ৷
এদিকে, বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে সম্প্রতি তাৎপর্যপূর্ণ রায় দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টও। বিবাহ বিচ্ছেদের পর এক দম্পতির মধ্যে সন্তানের পড়াশোনা নিয়ে মতানৈক্য তৈরি হয়! তার জেরে সন্তানের পড়াশুনোর ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়েছিল ৷ এই আবহে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট ৷ আদালতের পর্যবেক্ষণ, বিবাহবিচ্ছেদের পর সন্তানকে নিয়ে টানাপোড়েন হওয়া স্বাভাবিক ৷ কিন্তু তার জন্য সন্তান যেন তাঁর উপযুক্ত শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না-হয় ৷ তার লেখাপড়ার বিষয়ে বাবা-মায়ের একমত হওয়া জরুরি ৷ নাহলে শেষ পর্যন্ত সন্তানেরই ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হবে ৷

