কংগ্রেসের সাংগঠনিক সংস্কার, গুজরাত-মধ্যপ্রদেশকে মডেল রাজ্য বাছলেন রাহুল
সাম্প্রতিক অতীতে গুজরাত বা মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেসের ফল বেশ খারাপ হয়েছে। আর বিজেপির এই দুই শক্ত ঘাঁটি থেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই শুরু করলেন রাজীব-তনয়।

Published : March 23, 2025 at 10:11 PM IST
নয়াদিল্লি, 23 মার্চ: কংগ্রেসের সংগঠনকে শক্তিশালী করতে গুজরাত এবং মধ্যপ্রদেশকে মডেল রাজ্য হিসেবে বেছে নিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি। এই দুই রাজ্যেই বহু বছর ধরে বিজেপির শাসন চলছে ৷ এমনকী দুই রাজ্যেই শেষ বিধানসভা এবং লোকসভা নির্বাচনেও কংগ্রেসের ফল বেশ খারাপ হয়েছে। তারপরও এই দুটি রাজ্যকে বেছে নিয়েছেন রাহুল। তার নেপথ্যে বেশ কয়েকটি কারণ খুঁজে পেয়েছে রাজনৈতিক মহল।
2022 সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস গুজরাতে 182টি বিধানসভা আসনের মধ্যে মাত্র 17টিতে জিতেছিল। 2024 সালের লোকসভা নির্বাচনে 26টি আসনের মধ্যে জিতেছে মাত্র একটি আসনে। অন্যদিকে, 2023 সালের বিধানসভা নির্বাচনে মধ্যপ্রদেশের 230টি আসনের মধ্যে 66টি আসন জিতেছিল দল ৷ লোকসভা নির্বাচনে 29টির মধ্যে পেয়েছিল মাত্র একটি আসন। দুটি ফলাফলের প্রধান কারণ হিসেবে দুর্বল সংগঠনকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
দুটি রাজ্যে সাংগঠনিক পুনর্গঠনের নীলনকশা চূড়ান্ত করা হচ্ছে যা এআইসিসি অধিবেশনের সময় প্রকাশ করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। এই পরিকল্পনায় নির্বাচিত প্রতিনিধিদের চেয়ে জেলা ইউনিটের প্রধানদের বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে ৷ তেমনই বিধানসভাভিত্তিক পর্যবেক্ষকদের মোতায়েনও করা হবে যাঁরা ব্লক ও পঞ্চায়েত স্তরের প্রধানদের নাম ঘোষণা করবেন ৷ দলে তরুণদের অন্তর্ভুক্ত করার জন্যও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।
গুজরাত কংগ্রেসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ৷ 8 ও 9 এপ্রিল আমেদাবাদে এআইসিসির অধিবেশন বসতে চলেছে ৷ 2027 সালের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতিও শুরু করেছে কংগ্রেস। গুজরাতের কংগ্রেস নেতা সিদ্ধার্থ প্যাটেল বলেন, “কংগ্রেসের সংগঠনকে মজবুত করতে গুজরাতকে একটি মডেল রাজ্য হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। পুনর্গঠনের লক্ষ্যে বর্তমান ব্যবস্থায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনও আনা হচ্ছে ৷ বিস্তারিত কাজ এখনও চলছে ৷” তিনি আরও বলেন, “দলকে কীভাবে শক্তিশালী করা যায়, বর্তমান ব্যবস্থার ত্রুটিগুলি কীভাবে দূর করা যায় এবং কীভাবে যুবসমাজকে দলে আকৃষ্ট করা যায় সে সম্পর্কে আমরা পরামর্শ পেয়েছি। ”
মধ্যপ্রদেশে পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচন 2028 সালে ৷ তবে নবনিযুক্ত এআইসিসি পর্যবেক্ষক হরিশ চৌধুরি এবং প্রদেশ সভাপতি জিতু পাটোয়ারি ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন বলে খবর। জিতু বলেন, “আমরা খুশি যে সাংগঠনিক পুনর্গঠনের জন্য মধ্যপ্রদেশকে একটি মডেল রাজ্য হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। আমরা জেলা প্রধানদের বেছে নেওয়ার কাজ করেছি। ব্লক ও পঞ্চায়েত-স্তরের প্রধানদের তালিকা তৈরি করেছি। শহরে আমাদের স্থানীয়-স্তরের ইউনিটও থাকবে। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হচ্ছে। প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নেওয়ার জন্য রাজ্য স্তরের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। আমরা দু থেকে তিন মাসের মধ্যে সাংগঠনিক কাজ সম্পন্ন করব ৷” জেলা ইউনিটগুলি পর্যালোচনা করার জন্য হরিশ চৌধুরী রাজ্যজুড়ে গত কয়েক মাস ধরে রাজ্য সরকারের নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন।
তিনি বলেন, “ ক্ষমতায় ফিরে আসার জন্য আমাদের পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত লড়াইয়ের মেজাজে থাকতে হবে। সাংগঠনিক পুনর্গঠন সম্পন্ন হলে, দল একটি নতুন চেহারা পাবে। আমাদের প্রধান লক্ষ্য স্থানীয় পর্যায়ে একটি শক্তিশালী সংগঠন তৈরি করা এবং জনগণের জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মতো সঠিক কর্মী খুঁজে বের করা ৷”

