বিমান দুর্ঘটনায় মৃত 24 জনের দেহ পেল পরিবার, DNA ম্যাচিং কী ? জানালেন বিজ্ঞানী
বিমান দুর্ঘটনার তিনদিন পর রবিবার 24টি দেহ পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছে প্রশাসন ৷ ডিএনএ ম্যাচিং করে দেহ শনাক্ত করা হচ্ছে ৷ কী এই প্রক্রিয়া ?

Published : June 15, 2025 at 9:13 PM IST
আমেদাবাদ, 15 জুন: বিমান দুর্ঘটনায় ঝলসে যাওয়া দেহ শনাক্ত করতে ডিএনএ সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছিল আগেই ৷ মৃতদেহের ডিএনএ-র সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যের ডিএনএ মিলিয়ে দেহ চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে ৷ দেহগুলি চিহ্নিত করে এবার তা পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার কাজও শুরু হল ৷ ডিএনএ ম্য়াচিং প্রক্রিয়া যথেষ্ট সময় সাপেক্ষ ও জটিল বলে জানালেন ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (এফএসএল)-এর ডিরেক্টর এইচ পি সাংঘভি ৷
রবিবার আমেদাবাদের সিভিল হাসপাতালের অতিরিক্ত মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট ডাঃ রজনীশ প্যাটেল বলেন, "এখনও পর্যন্ত 47টি দেহের ডিএনএ মেলানো সম্ভব হয়েছে ৷ 44 জনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা গিয়েছে ৷ 24 জনের দেহ তাঁদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ৷"
#WATCH | #AhmedabadPlaneCrash | Ahmedabad: Additional Medical Superintendent of Civil Hospital Dr. Rajnish Patel says, " 47 dna have matched so far. out of those 47, families of 44 have been contacted. so far, mortal remains of 24 deceased have been handed over to their… pic.twitter.com/oM24gSIy6I
— ANI (@ANI) June 15, 2025
এই ডিএনএ ম্যাচিং করে বিমান দুর্ঘটনায় মৃত গুজরাতের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানির দেহ শনাক্ত করা গিয়েছে ৷ 12 জুন আমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে টেক অফ করার কিছু পরেই সংলগ্ন মেঘানিনগরের চিকিৎসকদের হস্টেলের উপর ভেঙে পড়ে এয়ার ইন্ডিয়ার এআই-171 ড্রিমলাইনার বিমান ৷ সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ ও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বিমানে থাকা 241 জনেরই মৃত্যু হয় ৷ একজন মাত্র যাত্রী বিশ্বাস রমেশ কুমার এমার্জেন্সি গেটের কাছে 11এ নম্বর সিটে বসেছিলেন ৷ তিনি দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমান থেকে বেরিয়ে প্রাণে বাঁচেন ৷
কীভাবে হয় ডিএনএ ম্যাচিং?
ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (এফএসএল)-এর ডিরেক্টর এইচ পি সাংঘভি ডিএনএ প্রোফাইল সংগ্রহ এবং দেহ শনাক্তকরণ নিয়ে ইটিভি ভারতকে জানান, 24 ঘণ্টা ধরে মৃতের পরিবারের কাছ থেকে ডিএনএ সংগ্রহ করার কাজ চলছে ৷ প্রাথমিক স্তরে দু'টি পদ্ধতিতে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা যায় ৷
প্রথমত, কোনও ব্যক্তির শরীর থেকে রক্ত সংগ্রহ করা ৷ এটি সহজ পদ্ধতি ৷ দ্বিতীয়ত, মৃতের দেহাবশেষ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করার কাজ, যা অনেক জটিল ৷ এর জন্য যথেষ্ট দক্ষতার প্রয়োজন ৷ দেহ থেকে সংগ্রহ করা ডিএনএ সযত্নে সতর্কতার সঙ্গে পরিষ্কার করতে হয়, যাতে তার মধ্যে বাইরের কোনও কিছু মিশে না থাকে ৷
সাংঘভি আরও জানান, শরীরের হাড় থেকে সংগৃহীত ডিএনএ নমুনা গুঁড়ো করতে হয় ৷ একইভাবে দাঁত থেকে সংগ্রহ করলেও তা ভেঙে টুকরো ও তারপর গুঁড়ো করা হয় ৷ একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় একটি বিশেষ যন্ত্রে ওই গুঁড়ো থেকে ডিএনএ আলাদা করা হয় ৷ এই সংগৃহীত ডিএনএ-র নমুনার মান ও পরিমাণ দু'টিই আরটি-পিসিআর মেশিনে পরীক্ষা করা হয় ৷ প্রাপ্ত ডিএনএ-র মান সন্তোষজনক হলে সেখান থেকে একাধিক কপি তৈরি করা হয় ৷ এরপর এই ডিএনএ থেকে পাওয়া যায় ডিএনএ প্রোফাইল ৷ এই পুরো প্রক্রিয়াটিই যথেষ্ট জটিল এবং সময়-সাপেক্ষ ৷
একবার পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ হলেও ওই নমুনা থেকে পর্যাপ্ত সংখ্যায় ডিএনএ অ্যালিল না-পাওয়া গেলে একই প্রক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি করতে হয় ৷ তখন ডিএনএ অ্যালিল নিয়ে মৃতের পরিবারের সদস্যের ডিএনএ-র সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে ৷ 23টি ডিএনএ অ্যালিল মিলে গেলে তখনই মৃত ও তাঁর পরিবারের সদস্যের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব ৷ বাবা-ছেলের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের ক্ষেত্রে ওয়াই ক্রোমোজোম পরীক্ষা করা হয় ৷
ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (এফএসএল)-এর ডিরেক্টর এইচ পি সাংঘভি জোর দিয়ে জানান, একদিকে এই পুরো প্রক্রিয়াটি জটিল এবং যথেষ্ট সময় প্রয়োজন ৷ অন্যদিকে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ডিএনএ প্রোফাইলিং এবং এফএসএল ম্যাচিং করতে হয় ৷ আমেদাবাদের দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে মৃতদের অনেকেরই তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ডিএনএ ম্যাচিং খুব অল্প সময়ের মধ্যে সফল হয়েছে ৷

