হাসপাতালের ওয়ার্ডে ঢুকে মহিলা রোগীকে মারধর পুরুষ নিরাপত্তারক্ষীর, ঘটনায় নিন্দার ঝড়
জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের সাফাই, ওই মহিলা মানসিক ভারসাম্যহীন রোগী ৷ জেলা হাসপাতালে মানসিক রোগীদের জন্য কোনও ওয়ার্ড নেই ৷
Published : June 25, 2025 at 9:35 PM IST
কৃষ্ণনগর (নদিয়া), 25 জুন: ওয়ার্ডে ঢুকে মহিলা রোগীকে মারধরের অভিযোগ পুরুষ নিরাপত্তারক্ষীর বিরুদ্ধে ৷ ভিডিয়ো সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে । ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার কৃষ্ণনগর শক্তিনগর জেলা হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে ৷
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, নির্যাতিত ওই মহিলা মানসিক ভারসাম্যহীন ৷ মহিলা ওয়ার্ডে ঢুকে রোগীদের উপর অত্যাচার করছিলেন তিনি । হাসপাতালের পুরুষ নিরাপত্তারক্ষী সেই সময় মহিলা ওয়ার্ডে ঢুকে তাঁকে বাধা দিতে যান ৷ তখনই ওই মহিলা নিরাপত্তারক্ষীর উপর চড়াও হন ৷ এরপরেই হাসপাতালের ওয়ার্ডের ভিতর নিরাপত্তারক্ষীর সঙ্গে ওই মহিলার প্রকাশ্যে মারামারির ভিডিয়ো সামনে আসে ৷
প্রশ্ন উঠছে, জেলা হাসপাতালের মতো জায়গায় একাধিক নিরাপত্তারক্ষী থাকলেও কীভাবে একজন মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলা ওয়ার্ডে ঢুকে পড়েন । স্বাভাবিকভাবেই হাসপাতালে রোগীদের নিরাপত্তার গাফিলতির অভিযোগ উঠছে । পাশাপাশি মহিলাকে মারধরের ঘটনায় সরব হয়েছে রাজ্যের বিরোধী দল ৷
বিজেপি নেতা অর্জুন বিশ্বাস বলেন, "কৃষ্ণনগর শক্তিনগর জেলা হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে যে ঘটনা ঘটেছে তা নিন্দনীয় ৷ ওয়ার্ডে ঢুকে পুরুষ নিরাপত্তারক্ষী মহিলা রোগীকে মারধর ও তার শ্লীলতাহানি করেছে ৷ ওই সরকারি কর্মীর যেন উপযুক্ত শাস্তি হয় ৷ যাতে আগামিদিনে এইরকম ঘটনা আর কেউ ঘটাতে না পারে ৷ হাসপাতালে রোগীদের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে হবে প্রশাসনকে ৷"
তিনি আরও বলেন, "শক্তিনগর হাসপাতালের সুপারকে এই ঘটনায় সঠিক পদক্ষেপ করার আবেদন করছি ৷ নইলে আগামিদিনে এই হাসপাতাল নরকে পরিণত হবে ৷ তৃণমূল ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে সরকারি হাসপাতালে স্যালাইন পাওয়া যাচ্ছে না ৷ ইনজেকশন সব বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে ৷ উপরন্তু চিকিৎসা করাতে গেলে মারধর খেতে হচ্ছে ৷ সারা পশ্চিমব্যাপী এইরকম নক্কারজনক ঘটনায় পুলিশ মন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত ৷ তিনি তিনটি ক্ষেত্রে ব্যর্থ ৷"
জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জ্যোতিষচন্দ্র দাসের দাবি, "এই ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে ৷ বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে । ওই মহিলা মানসিক ভারসাম্যহীন ৷ একমাত্র বহরমপুর ছাড়া শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে মানসিক রোগীদের জন্য কোনও ওয়ার্ড নেই ।"
কৃষ্ণনগর জেলা পুলিশের ডিএসপি শিল্পী পাল বলেন, "এটা যেহেতু হাসপাতালের মধ্যে হয়েছে তাই প্রাথমিকভাবে পুরোটাই স্বাস্থ্য দফতরের ব্যাপার । নিশ্চয়ই তারা দফতরের তরফে তদন্ত চালাবে । তবে এখনও পর্যন্ত আমাদের কাছে এ বিষয়ে কোনও লিখিত অভিযোগ আসেনি । অভিযোগ এলে অবশ্যই সঠিক তদন্ত প্রক্রিয়া চালানো হবে ।"